সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: গুরপ্রীতের দু’পায়ের ফাঁক থেকে বল জালে জড়াতেই গর্জে উঠল ৬০ হাজারের গ্যালারি। সমর্থকদের উদ্দেশে ছুটে এসে ব্যাটিংয়ে ছক্কা হাঁকানোর স্টাইলে সেলিব্রেশনে মাতলেন জেমি ম্যাকলারেন। অতিরিক্ত সময়ে অজি তারকার গোলেই ‘ডাবল’এর স্বপ্নপূরণ মোহন বাগানের। মূম্বইয়ের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে আইএসএল লিগ-শিল্ড ও কাপ জয়ের নজির গড়ল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। আর জাল কাঁপিয়ে ফাইনালের নায়ক অবশ্যই ম্যাকলারেন। তিনি কেন টুর্নামেন্টের ‘হায়েস্ট পেইড’ ফুটবলার, তা আবারও প্রমাণ করলেন অজি তারকা। ম্যাচ শেষে অবশ্য এই সাফল্যের কৃতিত্ব গোটা দলকেই দিলেন তিনি। বললেন, ‘ভারতে প্রথমবার খেলতে এসেই জোড়া ট্রফি জয়। অবিশ্বাস্য। মোহন বাগান জার্সিতে অন্যতম সেরা গোল। তবে এর পুরো কৃতিত্বই সতীর্থদের। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও আমরা দমে যাইনি। বিশ্বাস ছিল, ম্যাচে ঠিক ঘুরে দাঁড়াব। সমর্থকদের ট্রফি উপহার দেওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই।’
ম্যাকলারেনের পাশাপাশি ফাইনালে জাল কাঁপান বাগানের আর এক অজি তারকা জেসন কামিংস। তাঁর পাঁয়ের দুরন্ত শটেই পেনাল্টিতে সমতা ফেরায় মোহন বাগান। দিমিত্রি পেত্রাতোস ও গ্রেগ স্টুয়ার্টকে বেঞ্চে রেখে কোচ মোলিনা যে আস্থা রেখেছিলেন, তার মর্যাদা রাখতে পেরে আপ্লুত কামিংস। বলেন, ‘গতবার শিল্ড জয়ের পরও ফাইনালে হারতে হয়েছিল। তবে এবার ‘ডাবল’এর লক্ষ্যে আমরা অবিচল ছিলাম। এটা আমার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য। এবার সময় সেলিব্রেশনের।’ প্রশংসা করতে হবে গ্রেগ স্টুয়ার্টেরও। এই স্কটিশ মিডিওর পাস ধরেই জাল কাঁপান ম্যাকলারেন। শুধু তাই নয়, তিনি মাঠে নামার পরই সবুন-মেরুনের মাঝমাঠ অনেক বেশি সচল হয়। তার ফলেই ক্রমশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন রায়ান উইলিয়ামস-নোগুয়েরারা।
ফাইনালে ম্যাচের ফল উল্টো হলে অবশ্য সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে ভিলেন হতেই পারতেন আলবার্তো রডরিগেজ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাঁর আত্মঘাতী গোলেই পিছিয়ে পড়ে মোহন বাগান। শুধু তাই নয়, ম্যাচে আরও দু’বার এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের ভুলে গোল হজম করতে পারত মোলিনা ব্রিগেড। তবে বিশাল কাইথের বিশ্বস্ত হাতে রক্ষা পায় তারা। ম্যাচ শেষে অবশ্য স্প্যানিশ ডিফেন্ডারকে সামনে রেখেই কাপ জয়ের সেলিব্রেশন সারলেন বাগান ফুটবলাররা। রডরিগেজও খোলা মনেই সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে গা ভাসালেন।