Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

এক দেশ, এক নির্বাচন: সংসদের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল ২ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির

‘এক দেশ এক নির্বাচন’ করাতে সংবিধান সংশোধন বিল এনেছে মোদি সরকার। দু’টি বিলের খসড়া নিয়ে আলোচনার জন্য গঠন করা হয়েছে সংসদীয় যৌথ কমিটি।

এক দেশ, এক নির্বাচন: সংসদের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল ২ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ করাতে সংবিধান সংশোধন বিল এনেছে মোদি সরকার। দু’টি বিলের খসড়া নিয়ে আলোচনার জন্য গঠন করা হয়েছে সংসদীয় যৌথ কমিটি। শুক্রবার সেই কমিটির  বৈঠকে হাজির হয়ে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন দেশের দুই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জে এস কেহর এবং ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তাঁদের সাফ কথা, বিলের বলে কমিশনকে ‘অতি’ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এটা ঠিক নয়! সংসদকেই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী রাখার পক্ষেই সওয়াল করেন তাঁরা। চন্দ্রচূড়ের মতে, একসঙ্গে (লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভা) ভোট হওয়ার পর পাঁচ বছরের আগে কোনও বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হলে কতদিন পর ভোট হবে? এটা ঠিক করার ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকা উচিত নয়। সংসদই বেঁধে দিক সময়। 

Advertisement

‘এক দেশ এক ভোট’-এর প্রবল বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, এদিন কার্যত মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সুরে চন্দ্রচূড়ের সওয়াল—একসঙ্গে ভোট করাতেই হবে, এই নিয়ম মানতে গিয়ে যেন গুড গভর্নেন্সের উপর যেন প্রভাব না পড়ে। সেটা আগে দেখতে হবে। মেয়াদ শেষের আগে সরকার পড়ে গেলে কী হবে, তা নিয়েও জটিলতা রয়েছে। নতুন বিল অনুযায়ী, এক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত হবে। কিন্তু সেটা যদি পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ছ’মাস আগে হয়, তাহলে‌? নতুন সরকার হবে নাকি ছ’ মাস কোনও ভোটই হবে না?
বিজেপি সাংসদ পি পি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিন বসেছিল বৈঠক। বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডাকা হয়েছিল ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, জে এস কেহর এবং ই এম সুদর্শন নাচিয়াপ্পানকে। সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভতৃহরি মহতাব, সুপ্রিয়া সুলে, সম্বিত পাত্র প্রমুখ। গত ২১ এপ্রিল ৩৪ পাতার লিখিত মতামত কমিটিকে জানিয়েছেন চন্দ্রচূড়। তা সত্ত্বেও মুখোমুখি তাঁর মতামত জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন সদস্যরা। এদিন বৈঠকে হাজির হয়ে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, ‘এক দেশ এক নির্বাচন করাতে সরকার যে দু’টি বিল এনেছে (১২৯ তম সংবিধান সংশোধন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধন), তাতে সংবিধানের উপর কোনও আঘাত আসছে না ঠিকই। তবে এতে বেশ কিছু খামতি রয়েছে। এই বিল পাশ হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই সংসদেই বিষয়টি সংশোধন করে নেওয়া উচিত। সংসদীয় যৌথ কমিটিকে সেই মতো প্রস্তাব তৈরি করে সরকারকে দেওয়া দরকার।’ এদিনের আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট। বৈঠক শেষে ‘বর্তমান’কে বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার কোনও সংসদীয় যৌথ কমিটির মুখোমুখি হলাম। অত্যন্ত উচ্চমার্গের সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হল। খুব ভালো লাগল।’  বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, এদিন বৈঠকে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কেহর বলেছেন,  এই বিল পাশ হলে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। সেটা হতে দেওয়া হবে কিনা, ভেবে দেখা উচিত। সূত্রে খবর, বৈঠকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সংবিধানের ৩৫২ অনুচ্ছেদে যে জাতীয় জরুরি অবস্থার কথা আছে। বর্হিশত্রুর আক্রমণ বা আন্তর্জাতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে যদি একসঙ্গে নির্বাচনের সময় এসে পড়ে, তাহলে কী হবে? ভোট হবে, নাকি হবে না? তার কোনও সঠিক জবাব অবশ্য এদিন কেউই দিতে পারেননি। তৃণমূলের প্রশ্ন, গত পাঁচ দশকের সফল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কেন ভেঙে দেওয়া হবে? তবে কি দেশটাকে প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেমের দিকে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ