সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার জন্য হাতে আর মাত্র এক মাস সময়। আগামী ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে ভিনরাজ্য থেকে একটি বাঘিনী এনে ছাড়া হবে। তাই টাইগার রি-ইন্ট্রোডাকশনে নজরদারির কাজের জন্য জলদাপাড়া থেকে আরও দুটি কুনকি হাতি চন্দ্র ও চন্দ্রিমাকে আনা হয়েছে বক্সার জঙ্গলে। সোমবার জলদাপাড়া থেকে নিয়ে এসে ওই দুটি কুনকি হাতিকে বক্সার চেকো বিটে রাখা হয়েছে। এর আগে জলদাপাড়া থেকে বক্সার টাইগার রি-ইন্ট্রোডাকশনে নজরদারির জন্য তিনটি কুনকি হাতি ভরত, সারথী ও বিঠালাকে আনা হয়েছিল। চন্দ্র ও চন্দ্রিমাকে ধরে বক্সায় বাঘের নজরদারির কাজে মোট পাঁচটি কুনকি হাতি হল। তবে চন্দ্র ও চন্দ্রিমা বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের নিজস্ব কুনকি হাতি। দেড় বছর আগে প্রশিক্ষণের জন্য এই দুটি কুনকি হাতিকে জলদাপাড়ায় পাঠানো হয়েছিল। প্রশিক্ষণ শেষে দুটি কুনকিকে ফের বক্সায় ফিরিয়ে আনা হল।
বনদপ্তর জানিয়েছে, চন্দ্র ও চন্দ্রিমা যাবতীয় প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে খবর, বক্সায় বাঘের জন্য ত্রিস্তরীয় নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রথম স্তরের নজরদারিতে থাকছে রেডিও কলার। রেডিও কলার পরিয়েই বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হবে। রেডিও কলারের মাধ্যমে বাঘটির গতিবিধির উপর নজর রাখবে বনদপ্তর। দ্বিতীয় স্তরে বাঘের নজরদারিতে থাকছে কুনকি হাতি। পাঁচটি কুনকি হাতিকে পালা করে বাঘের নজরদারির কাজে লাগানো হবে। বাঘের নজরদারির জন্য একেবারে দুর্গম জঙ্গলের ভিতরে কুনকি হাতির মাধ্যমে পেট্রলিং চালাবেন বনকর্মীরা। আর তৃতীয় ধাপে জঙ্গলের ঘেরাটোপের বাইরে বাঘের দিকে নজরদারি চালাবেন বন কর্মীরা।
বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ বলেন, একেবারে সবকিছু নিয়ম মেনে বক্সায় টাইগার রি-ইন্ট্রোডাকশনের কাজ চলছে। সময় যত এগিয়ে আসছে কাজের গতিও তত বাড়ছে। সকলের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ টাইগার রি-ইন্ট্রোডাকশন নিয়ে কেউ যেন অযথা গুজব না ছড়ায়। • নিজস্ব চিত্র।