পড়ুয়াদের ডাকা কনভেনশনে ক্যাম্পাসে  অধ্যাপক ও পরিচালকদের প্রবেশে বাধা, রাতে এসআরএফটিআইয়ে ঢুকল পুলিশ
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সত্যজিত্ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) পড়ুয়াদের আন্দোলন ৩০ দিনে পা দিল। মঙ্গলবার পড়ুয়ারা দেশজুড়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন সকালে ক্যাম্পাসের ভিতরে একটি কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়। উপস্থিত হন চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, আইনজীবী ও অধ্যাপকরা। কিন্তু ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদের প্রবেশ করতেই দেওয়া হয়নি! ফলে গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বক্তব্য রাখেন তাঁরা। সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন পড়ুয়ারা। ক্যাম্পাসের গেটের বাইরেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। গত একমাসে ক্যাম্পাসে আক্রমণ, আন্দোলনের ছবি নিয়ে প্রদর্শনী হয়। এদিকে, মধ্যরাতে  উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। ছিলেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেন আধিকারিকরা। কিছুক্ষণ পর বাহিনীর একাংশ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যায় বলে খবর। 

Advertisement

মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসের ভিতর বি আর আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে কর্মসূচি শুরু করেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের  ভিতর অবস্থান মঞ্চেই কনভেনশনের কথা ছিল। কিন্তু অতিথি বক্তাদের ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করতে না-দেওয়ায় মূল ফটকের সামনেই কনভেনশন চলে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, খাবার ও অন্যান্য ডেলিভারি বয়দের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। কিন্তু বক্তারা অনুমতি পাননি। বক্তব্য রাখেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী, আইনজীবী শামিম আহমেদ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুভজিত্ সরকার, অভিনেতা সায়ন ঘোষ, জয়রাজ ভট্টাচার্য, এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে প্রমুখ। সন্ধ্যায় পড়ুয়াদের সংহতিতে উপস্থিত হন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। তাঁরা বলেন, সংবিধান বাঁচানোর লড়াইয়ে তাঁরা সকলে পড়ুয়াদের পাশে আছেন। উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা আগে অভিযোগ করেছিলেন, আন্দোলনের নামে কিছু পড়ুয়া ক্যাম্পাসে ভাঙচুর করেছেন।  সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে ছজন পড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত পড়ুয়া নচিকেত, অ্যারন প্রমুখ এদিন বলেন, সেদিন ক্যাম্পাসে যারা আক্রমণ করল, আমাদের দিকে ইট ছুড়ল, তাদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হল না। অথচ বহিষ্কৃত হয়ে গেলাম আমরা! তাঁদের বক্তব্য, দেশজুড়ে আইআইটি বম্বে থেকে জেএনইউ, জামিলা মিলিয়াতে বিজেপি-আরএসএস আক্রমণ চালাচ্ছে। এসআরএফটিআই সেই আক্রমণেরই অঙ্গ।  
অন্যদিকে, এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়াদের ডাকে সাড়া দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায়। পাশাপাশি দেশজুড়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটেও বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।