সংবাদদাতা, বনগাঁ: স্বপ্নে পাওয়া এক ওষুধেই সারবে ৬৪ রকমের অসুখ! পায়ে ব্যথা, হাড় ভাঙা, সুগার, পেটের সমস্যা এমনকী ক্যান্সার– সব থেকেই মিলবে মুক্তি। শুধু তাই নয়! প্রেমঘটিত মানসিক আঘাতও সারবে বাবার ওষুধে। শুধুমাত্র গাছের শিকড়ের মাদুলি শরীরে ধারণ করলেই হবে। ‘বাবার’ কাছ থেকে এই ওষুধ নিতে দূর থেকে আসছেন মানুষজন। তাঁদের বিশ্বাস ‘বাবা’ পারবেন তাঁদের সুস্থ করে তুলতে। গাইঘাটা থানার ময়নার বাসিন্দা অপূর্ব বৈদ্য এখন পরিচিত নাম। তাঁর স্বপ্নে পাওয়া ওষুধের কথা ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। তবে বাবার এই বুজরুকি মানতে নারাজ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এটা কেবল মানুষ ঠকানো। বাবার কার্যকলাপের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, গাইঘাটার ময়নার বাসিন্দা অপূর্ব বৈদ্য রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। শিবের ভক্ত তিনি। ভক্তিভরে পূজাচর্নাও করতেন। সম্প্রতি তিনি স্বপ্নাদেশ পান। গাছগাছালি দিয়ে তৈরি করেন ওষুধ। প্রথমে গ্রামের কয়েকজন তাঁর সেই ওষুধ মাদুলি আকারে শরীরে ধারণ করে নাকি সুফল পান। ছড়িয়ে পড়তে থাকে ‘অপূর্ববাবা’র সুনাম। বাড়িতে অসুস্থ রোগীর ভিড় বাড়তে থাকে। আসতে শুরু করেন নানা রকম সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীরাও। বাবার ব্যবসার পরিসরও বাড়তে থাকে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাবা এলাকার একটি প্রাথমিক স্কুলে চিকিৎসা-ব্যবসা শুরু করেন। সেখানে উত্তর ২৪ পরগনা, এমনকী জেলার বাইরের লোকজনও আসতে শুরু করেন। বিষয়টি বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী মঞ্চের সদস্যদের নজরে আসে। এবিষয়ে যুক্তিবাদী মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক প্রদীপ সরকার বলেন, এটা বুজরুকি ছাড়া কিছুই নয়। মানুষ যে এখনও এমন কুসংস্কারে বিশ্বাস রাখছেন, এটা আগামীর জন্য ভয়ঙ্কর। অবিলম্বে এটা বন্ধ হওয়া উচিত। গাইঘাটা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুজন গাইন বলেন, এধরনের ঘটনা খুবই উদ্বেগের। অনেক সময় কিছু শারীরিক সমস্যা আপনা আপনি সেরে যায়। সেটাই হয়তো ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘ফকিরের কেরামতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।



