Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খেজুরিতে জরাজীর্ণ প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র সামলাচ্ছেন মাত্র একজন এলডিএ

প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। আবার পাঁচজন কর্মী থাকার কথা থাকলেও একজন কর্মীই প্রায় সমস্ত কাজ সামলাচ্ছেন।

খেজুরিতে জরাজীর্ণ প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র সামলাচ্ছেন মাত্র একজন এলডিএ
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। আবার পাঁচজন কর্মী থাকার কথা থাকলেও একজন কর্মীই প্রায় সমস্ত কাজ সামলাচ্ছেন। খেজুরির টিকাশির তল্লায় রাজ্য প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চূড়ান্ত বেহাল দশায় প্রাণিপালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

Advertisement

জেলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ আধিকারিক উত্তম বিশ্বাস বলেন, স্থায়ী ভেটেরেনারি অফিসার নিয়োগ, ভবন মেরামত সহ কয়েকটি কাজের খসড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তল্লা বাসস্টপ থেকে হেঁড়িয়া-বিদ্যাপীঠ সড়ক ধরে হাঁটাপথে এই প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছনো যায়। ২০০৫সালে তৎকালীন প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী আনিসুর রহমান এর উদ্বোধন করেন একসময় এখানে ভেটেরিনারি অফিসার(ভিও), লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট(এলডিএ), কম্পাউন্ডার, পিওন ও সাফাইকর্মী-সবমিলিয়ে পাঁচজন কাজ করতেন। চারবছর আগে ভেটেরিনারি অফিসার অন্যত্র বদলি হয়েছেন। তারপর থেকে কোনও স্থায়ী আধিকারিক নেই। ব্লক প্রাণীসম্পদ দপ্তরের আধিকারিক সুমিত তা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। গত চারবছরের মধ্যে একে একে কম্পাউন্ডার, পিওন, সাফাইকর্মী অবসর নিয়েছেন। ফলে ছ’মাস ধরে এলডিএ শিবশঙ্কর দাসই প্রায় সমস্ত কাজ সামলাচ্ছেন। এলাকার মানুষ প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির হাল ফেরানোর দাবি তুলেছেন।একসময় এখানে গবাদি পশুর চিকিৎসা করাতে বহু মানুষ ভিড় করতেন। এখন বেশিরভাগ দিন কেউ আসেন না। কখনো-সখনো অসুস্থ ছাগল মুরগির চিকিৎসা করাতে কেউ কেউ আসেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, দোতলা ভবনের চারদিকে একহাঁটু আগাছার জঙ্গল। জীর্ণ ভবনের চাঙড় খসে পড়ছে। একাধিক জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ঝুলে রয়েছে। ভেটেরেনারি অফিসারদের জন্য দোতলায় কোয়ার্টার রয়েছে। কিন্তু এতদিন যাঁরা এসেছেন, তাঁরা কেউ সেখানে থাকেননি। ফলে কোয়ার্টার ফাঁকাই পড়ে থাকে। কৃত্রিম গো-প্রজনন বিভাগ, বীক্ষণাগার তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আছে। পাশে ক্যাটল শেড গড়ে তোলার পাশাপাশি সেখানে অপারেশন থিয়েটার করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবহারের অভাবে তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শেডটি  আগাছায় ঢেকেছে। পাঁচিল না থাকায় রাতে চত্বরে নেশাগ্রস্ত ও জুয়াড়িদের আসর বসে। উদ্বোধনের সময় বলা হয়েছিল, স্টাফ কোয়ার্টার, গবাদির পশুর রক্ত সহ অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি তৈরি হবে। কোনওটাই হয়নি। মূল রাস্তা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত কয়েকটি পথবাতি বসানো হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি বহু আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। দু’টি সাবমার্সিবল পাম্পও অকেজো।
এলডিএ শিবশঙ্করবাবু জানালেন, আগে গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ন্যূনতম একটি গাই ও একটি বলদ থাকত। এখন গ্রামে মাত্র কয়েকটি পরিবার গোরু পালন করে। কারণ একটি গোরুর খাবারের পিছনে যা খরচ হয়, অনেকসময়ই দুধ বিক্রি করে সেই টাকা ওঠে না। এছাড়া, পাওয়ার টিলার চলে আসায় বলদ দিয়ে লাঙল দেওয়ার প্রথা উঠে গিয়েছে। সেকারণে গৃহস্থ বাড়িতে গোরু-বলদ পালন অনেকটাই কমেছে। ফলে প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্বও কমেছে। এলডিএ বলেন, বিদ্যুতের লাইন ঠিক নেই। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুতের সমস্যা হয়। নানা অসুবিধার মধ্যে কাজ করতে হয়।খেজুরি-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি জালালউদ্দিন খান বলেন, আমি ওই প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে যাব। তারপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানাব।     -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ