নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গরমের মরশুমে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তর বাঁকুড়ার খরাপ্রবণ এলাকায় ট্যাঙ্কারে করে পানীয় জল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫০০-১০০০ লিটারের ট্যাঙ্কার করে এই জল সরবরাহ করা হবে বলে দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। প্রয়োজনের ভিত্তিতে জল সরবরাহ শুরুর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলে তাঁরা জানান। আপাতত বাঁকুড়া সদর ও খাতড়া মহকুমার ১৬টি ব্লকের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের (পিএইচই) বাঁকুড়া ডিভিশনের নির্বাহী বাস্তুকার ঋতম ভট্টাচার্য বলেন, বাঁকুড়া জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৯৪৪টি জল প্রকল্প রয়েছে। ওইসব প্রকল্প এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। তার বাইরেও কিছু এলাকায় পানীয় জলের প্রয়োজন পড়ে। গরমের মরশুমে খরাপ্রবণ মৌজাগুলিতে আমরা এক লক্ষ ট্যাঙ্কার পানীয় জল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী এক বছর ধরেই অবশ্য প্রয়োজনের ভিত্তিতে ট্যাঙ্কারে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলবে। জলের প্রয়োজন হলে বাসিন্দারা বিডিও অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। সেখান থেকে আমাদের ডিভিশনে খবর দেওয়া হবে। তারপর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, রুখাসুখা বাঁকুড়ার বিভিন্ন এলাকায় এখনও পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছয়নি। ফলে বাসিন্দাদের নলকূপের জলের উপর ভরসা করতে হয়। জেলার বিভিন্ন ব্লক এলাকায় আর্সেনিক সহ অন্যান্য ক্ষতিকর মৌল বা ধাতু ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের সঙ্গে মিশে রয়েছে। ফলে ওইসব এলাকার জল পানের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তাছাড়া কিছু জায়গায় গ্রীষ্মে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর অনেকটাই নেমে যায়। তখন অগভীর নলকূপে জল ওঠে না। নলকূপ বিকল হতে শুরু করে। তখনই ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু কীভাবে ওই জল সরবরাহ করা হবে?
পিএইচই সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় জল সরবরাহ করার জন্য প্রতিদিন বড়জোড়া প্রকল্প এলাকায় ১৬ ঘন্টা পাম্প চালাতে হয়। সেখান থেকে দৈনিক ৬কোটি ৫০ লক্ষ লিটার জল সরবরাহ করা হয়। তারমধ্যে শুধুমাত্র বাঁকুড়া শহরের জন্য ১ কোটি ২০ লক্ষ লিটার জল পাঠানো হয়। ওই জলের ভরসায় শহর এবং লাগোয়া বাঁকুড়া-১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ থাকেন। কিন্তু তার বাইরেও বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হন। বড়জোড়ার পাশাপাশি পিএইচই-র তরফে মেজিয়া-গঙ্গাজলঘাটিতেও জল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ওই প্রকল্পের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি) টাকা দিচ্ছে। প্রকল্পের জন্য মোট ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বড়জোড়া প্রকল্পের মতো এক্ষেত্রেও দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল উত্তোলন করা হবে। তারজন্য ব্যারেজে ‘ইনটেক প্ল্যান্ট’ করা হয়েছে। সেই জল গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের বাসুদেবপুরের ‘ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে’ শোধনের পর বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হবে। ওই প্রকল্পের পানীয় জল ওই দুই ব্লকের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৪০টি মৌজায় পৌঁছে দেওয়া হবে। ৭০ হাজার পরিবার পরিশ্রুত পানীয় জল পাবে। কিন্তু প্রকল্প চালুর আগে জলের চাহিদা ট্যাঙ্কারের মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরকে মেটাতে হবে। একইভাবে জেলার বাকি এলাকাতেও গরমের মরশুমে জল ভর্তি ট্যাঙ্কার পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।