Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্রের পরীক্ষায় একশোয় ৯২ ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগের

শিশু বিভাগের চিকিৎসার মান ও পরিকাঠামো নিয়ে আগামীতে সমীক্ষার জন্য আবেদন করা হবে।

কেন্দ্রের পরীক্ষায় একশোয় ৯২ ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগের
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের এক সমীক্ষায় প্রসূতিদের চিকিৎসা ও পরিষেবার ক্ষেত্রে একশোর মধ্যে ৯২ শতাংশ নম্বর পেল ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।   

Advertisement

ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি অনুরূপ পাখিরা বলেন, কেন্দ্রের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসার মান ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমীক্ষা করা হয়েছিল। যে সমীক্ষায় পাস মার্ক পাওয়াই কঠিন হয়, সেখানে এই হাসপাতাল ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। শিশু বিভাগের চিকিৎসার মান ও পরিকাঠামো নিয়ে আগামীতে সমীক্ষার জন্য আবেদন করা হবে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুর তিন বছরের মাথায়  কেন্দ্রের থেকে মিলল সাফল্যের সার্টিফিকেট। রাজ্যের প্রান্তিক জেলা ঝাড়গ্রামে একসময়ে প্রসূতিদের চিকিৎসা ও পরিষেবার মান ছিল হতাশাজনক। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে ঝাড়গ্রাম মহকুমাকে ‘ঝাড়গ্রাম স্বাস্থ্য জেলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সেটি জেলা হাসপাতালের মর্যাদা পায়। হাসপাতালটিকে ২০১৬ সালে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসা পরিষেবার মান উন্নত করার সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়। বাইশ সালে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পথচলা শুরু। আধুনিক মানের চিকিৎসা পরিষেবা পেতে এখন পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকেও মানুষ এখানে আসছেন। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল ১৫ দিন আগে হাসপাতালে আসে। প্রসূতি বিভাগের পরিকাঠামো, পরিষেবা, পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমীক্ষা করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এই সমীক্ষার পোশাকি নাম ‘লক্ষ্য’। সমীক্ষার রিপোর্টে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল একশোর মধ্যে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ২০১৭ সালে এই ‘লক্ষ্য’ কর্মসূচি চালু করে। কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা করা। অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, এইচডিইউ পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন। সমীক্ষার সবকটি বিভাগে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। জেলা হাসপাতালর এক চিকিৎসক বলেন, এটা জেলার চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক বড়সড় সাফল্য। দেড় দশক আগে জেলার প্রসূতিদের ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া ছিল কঠিন। গ্ৰামাঞ্চলে চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নত ছিল না। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব ছিল। দূর দূরান্ত থেকে প্রসূতিদের সময়মতো  হাসপাতালে আনা সম্ভব হতো না। তাঁদের জীবনের ঝুকি বাড়ত। বর্তমানে গ্ৰামীণ এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নতি হওয়ায় প্রসূতিদের দ্রুত হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে। হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সমীক্ষায় সেই সাফল্য ধরা পড়েছে।  কেন্দ্রের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ