নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে চলছে ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবির। জমা নেওয়া হচ্ছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আবেদন। রাজ্যের কতজন যুবক- যুবতী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, এর মধ্যেই সেই হিসেব করে ফেলল নবান্ন। সূত্রের খবর, এক কোটির বেশি যুবক-যুবতী রাজ্যের এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে চলেছেন। তাঁরা মাসের শুরুতে পাবেন ১ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে এক মাসে এই খাতে রাজ্যের কোষাগার থেকে খরচ হবে দেড় হাজার কোটি টাকা।
সোমবার ছিল ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরের দ্বিতীয় দিন। এই দু’দিনে শিবিরে আসা মানুষের সংখ্যা ১৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৫০। এর মধ্যে ১৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮১২টি আবেদন জমা পড়েছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের জন্য। সর্বাধিক আবেদন জমা পড়েছে মুর্শিদাবাদ (দেড় লক্ষের বেশি)। সর্বনিম্ন কালিম্পং জেলায় (চার হাজার)। এছাড়াও রবিবার রাত ১২টা থেকে চালু হওয়ার পর অনলাইনে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ২২২টি আবেদন। রাত পর্যন্ত যা পৌঁছে গিয়েছে দেড় লক্ষে। শিবিরে এসে খেতমজুর ভাতা এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছেন দু’লক্ষ মানুষ। দু’দিন মিলিয়ে মোট শিবির হয়েছে ১৬০৪টি।
‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অন্যতম শর্ত হল মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। উপভোক্তাদের বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। সেক্ষেত্রে ২০ বছর সময়কালে কতজন মাধ্যমিক বা সমতুল্য অন্যান্য পরীক্ষা পাশ করছেন, তার হিসেব নেওয়া হয়েছে। দুই দশকে মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সংখ্যাটা প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ। তাঁদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যে চাকরি পেয়েছেন। বহু মানুষ আছেন, যাঁরা অন্যান্য ভাতা পান। এসব মাপকাঠিতে জমা পড়া আবেদনগুলি যথাযথ যাচাই করে চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরি হবে। রাজ্যের ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো স্কলারশিপ পেলেও ‘যুবসাথী’ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। তবে কোনো প্রকল্পের আওতাভুক্ত হলে এটি পাওয়ার কথা নয়। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আনুমানিক উপভোক্তা সংখ্যা ঠিক করা হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা নিয়ে আজ, মঙ্গলবার বৈঠক ডাকা হয়েছে নবান্নে।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরে জমা নেওয়া হবে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আবেদনপত্র। উচ্চশিক্ষা, চাকরির পরীক্ষা বা অন্যান্য কাজের জন্য যাঁরা এই সময়কালে রাজ্যের বাইরে থাকবেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে ‘যুবসাথী’র আবেদন গ্রহণ শুরু করে দিয়েছে রাজ্য। https://apas.wb.gov.in লিঙ্কে ক্লিক করলেই ঢোকা যাবে নির্দিষ্ট পোর্টালে। সেখানে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট, মার্কশিট, আধার, ভোটার কার্ড, জাতিগত শংসাপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং একটি কাগজে নিজের সই করে সেই কাগজের ছবি তুলে আপলোড করে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীর ফোন নম্বরে আসা ওটিপি দিলেই সম্পূর্ণ হবে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া।
সোমবার দুপুরে স্টেট ডেটা সেন্টারে কিছু সমস্যার জন্য অনলাইনে আবেদন নিতে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে কিছুক্ষণ পরই তা স্বাভাবিক হয়েছে।