নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের ডিজিটাল সুরক্ষায় লালবাজারে মোতায়েন ‘ডিজিটাল প্রহরী’। কলকাতা পুলিশের সাইবার বিভাগের এই প্রহরীর দরবারে গত ২৪ ঘণ্টায় জমা পড়েছে ২১৬টি অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ। আরও বিস্তারিত বললে, প্রতি ৭ মিনিটে একটি করে সাইবার অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছে লালবাজারের নয়া টোল ফ্রি নম্বরে (১৮০০-৩৪৫-০০৬৬)। পরিসংখ্যানটি রীতিমত আতঙ্ক উদ্রেক করে। তবে হোয়াইট কলার ক্রাইমের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এই নয়া উদ্যোগ কাজে দিচ্ছে দেখে আশ্বস্ত কলকাতা পুলিশ। এই নয়া ব্যবস্থায় মানুষের খোয়া যাওয়া টাকা দ্রুত পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে আশাবাদীও তারা।
মঙ্গলবার লালবাজারের সাইবার থানায় অনলাইন প্রতারণা রুখতে বিশেষ টোল ফ্রি নম্বরটির উদ্বোধন করেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি)। একসঙ্গেই চালু হয়েছে ‘ব্লকিং সেল’। সাইবার প্রতারণার অভিযোগে যুক্ত মোবাইল নম্বর, ওয়েবসাইট, ইউপিআই আইডি ব্লক করবে এই শাখা। টোল ফ্রি নম্বর চালু হতেই মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৬০টি ফোন এসেছে লালবাজারে। বুধবার বিকেল ছ’টা পর্যন্ত সেই সংখ্যা পৌঁছে যায় ২১৬টিতে। লালবাজারের সাইবার বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, এই নম্বর চালু হওয়ার পর মানুষের থেকে ভালো প্রতিক্রিয়া মিলছে। সরাসরি এবং নিখরচায় এক ফোনে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতিতে সুবিধা হয়েছে অভিযোগকারীদের। আগে অভিযোগ নথিবদ্ধ করতে কোন থানা বা কোন সাইবার সেলে যেতে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়তেন অনেকে। খোয়া যাওয়া টাকা কীভাবে ফেরত পাবেন, তার চিন্তাও ছিল। তার উপর কোন থানার আন্ডারে কেস হবে এই ফাঁপড়ে পড়ে অভিযোগ জানাতেও দেরি হত। সেই সমস্যা দুর করেছে ‘ডিজিটাল প্রহরী’। টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করলে, প্রাথমিকভাবে ‘গোল্ডেন আওয়ার ইনভেস্টিগেশন’ শুরু করে দেবে সাইবার পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর ঠিকানা শনাক্ত করে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানা বা সাইবার সেলে যাওয়ার লোকেশন বাতলে দেবে হেল্পডেস্ক।
শহরে কোন ধরনের সাইবার প্রতারণার ট্রেন্ড বেশি? কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ২১৬টি অভিযোগের সিংহভাগই ফোন হ্যাক হয়ে যাওয়ার ঘটনা। দৈনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ শতাংশ অভিযোগই হল— গ্রাহকের মোবাইলের কন্ট্রোল হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা। এর মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ কিংবা শুভেচ্ছাবার্তা সহ ক্ষতিকারক এপিকে ফাইল পাঠিয়ে ফোন হ্যাক করার ঘটনা রয়েছে। শীত শেষে ও মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ায় মানুষ বেড়াতে যাওয়া শুরু করেছেন। এই সুযোগে হোটেল বুকিংয়ের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। এই জালিয়াতির বহু অভিযোগ এসেছে ডিজিটাল প্রহরীতে। একইসঙ্গে ঋণ, বিমা, লগ্নি সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগও এসেছে। লালবাজার সূত্রে খবর, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ এই নম্বরে এদিন ফোন করেন। তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট জেলার সাইবার থানার নম্বর দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে।