নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোনও বাঘ ধরা পড়েনি। কোনও বাঘ বুড়োও হয়নি। ফলে শূন্য খাঁচা। ফলে পর্যটকরা হতাশ। এই শীতে সুন্দরবনের ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে গেলে পুরনো থ্রি মাস্কেটিয়ার্সের দেখা মিলবে না। তিনজনের দু’জন গত হয়েছে। দু’জনের শূন্যস্থান পূরণ করেছে একজন।
শীতের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটনে জোয়ার আসে। বড়দিন কিংবা বর্ষবরণের দিন মানুষের ঢল নামে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। তার মধ্যে অন্যতম ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্র। জঙ্গলে বাঘ দেখতে না পেলে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে এখানে ভিড় করেন পর্যটকরা। বর্তমানে কেন্দ্রে রয়েছে দু’টি বাঘ। একটি খাঁচা খালি পড়ে রয়েছে। মানুষের প্রশ্ন ছিল, পর্যটন মরশুম শুরুর পর কি তাহলে নতুন বাঘের দেখা মিলবে? আসবে নতুন বাঘ? বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছিল এমন জল্পনা। কিন্তু তাতে আপাতত জল ঢেলে দিয়েছে বনবিভাগ। বাঘ আনার কোনও পরিকল্পনা এখন নেই বলে জানিয়েছে। বন আধিকারিকরা জানান, যেহেতু এটা পুনর্বাসন কেন্দ্র। তাই এখানে বাঘ বৃদ্ধ হলে আনা হয়। বা যাদের শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিয়েছে এমন বাঘ আনা হয়। আপাতত অশক্ত বাঘ আলিপুর চিড়িয়াখানায় নেই। এছাড়া জঙ্গল থেকে এমন কোনও বাঘ ধরাও পড়েনি। প্রসঙ্গত ‘সুন্দর’, ‘সোহান’ এবং ‘সোহিনী’ এই তিন বাঘকে দিয়ে ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্র শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি সোহান ও সোহিনীর মৃত্যু হয়েছে। একা হয়েছে সুন্দর।
কিছুদিন আগে আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয়েছে অন্য একটি বাঘ। সেটি আছে। প্রাণীটির এখনও নামকরণ করা হয়নি। এই দু’টি বাঘ আপাতত থাকছে কিন্তু একটি খাঁচা পড়ে রয়েছে খালি। এই অবস্থায় জল্পনা শুরু হয়, তবে কি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আরও একটি বাঘ আনা হবে? জানা গিয়েছে, এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘ক’দিন পর থেকে পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়ে যাবে। আর একটি বাঘ থাকলে তাঁদের উচ্ছ্বাস দেখা দেবে। তাই আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাব।’