Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অপহরণ, লুটের টাকায় বান্ধবীকে নিয়ে গ্যাংটকে, ধৃত চক্রের পান্ডা

ক্রিপ্টো কারেন্সি দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীকে ডেকে এনে অপহরণ করে লুট করা হয়েছিল ৮.৯ লক্ষ টাকা। এই টাকার ভাগ পেয়েছিল লুটেরা গ্যাংয়ের সদস্যরা।

অপহরণ, লুটের টাকায় বান্ধবীকে নিয়ে গ্যাংটকে, ধৃত চক্রের পান্ডা
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রিপ্টো কারেন্সি দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীকে ডেকে এনে অপহরণ করে লুট করা হয়েছিল ৮.৯ লক্ষ টাকা। এই টাকার ভাগ পেয়েছিল লুটেরা গ্যাংয়ের সদস্যরা। তার মধ্যে তিন লক্ষ টাকা ভাগে জুটেছিল সুরজ সিং নামে এক অভিযুক্তের। গার্লফ্রেন্ডকে জানিয়েছিল কয়েকদিনের মধ্যে একটা মোটা টাকা আসবে। তার আবদার মতো সিকিম বেড়াতে নিয়ে যাবে। লুটের টাকা হাতে আসতেই প্লেনের টিকিট বুক করে সোজা চলে গিয়েছিল সিকিম। গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণের মাঝেই গ্যাংটকের হোটেলের ঘরে পৌঁছে যায় পুলিশ। সুরজকে গ্রেফতার করে সোমবার রাতে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। ধরা হয়েছে দলের আর এক সদস্য সায়নদীপ ভট্টাচার্যকে। ঘটনায় জড়িত চার অভিযুক্তের এখনও খোঁজ চলছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার বেলুড়ের বাসিন্দা ব্রিজেশ পাণ্ডের  পণ্য আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা রয়েছে খিদিরপুর ফ্যান্সি মার্কেটে।  চীন থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানির কারবার চলে ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে ইমো নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হয় খিদিরপুর এলাকায়। কথা প্রসঙ্গে ব্রিজেশ জানিয়েছিলেন, তাঁর ক্রিপ্টো কারেন্সির প্রয়োজন রয়েছে। ইমো জানায় ক্রিপ্টো কারেন্সি সে সরবরাহ করবে।  ক্রিপ্টো কারেন্সিতে ভরা একটি ওয়ালেট দেখিয়ে ব্রিজেশের আস্থা অর্জন করা হয়। ইমো তার গ্যাংয়ের কয়েকজনকে ফোন করে জানায় একজন ‘পার্টি’ পাওয়া গিয়েছে, ক্রিপ্টো কারেন্সির টোপ গিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, গত ২৮ অক্টোবর ইমোর কথামতো ব্যবসায়ী ৮.৯ লক্ষ টাকা নিয়ে খিদিরপুর হাজির হন। সেখানে তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে পার্ক সার্কাস নিয়ে আসা হয়। সেখানে সাদ্দাম নামে আরও এক  যুবকের সঙ্গে ব্রিজেশের পরিচয় করিয়ে দেয় ইমো। সঙ্গে প্রচুর টাকা রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর ইমো ও সাদ্দাম প্রগতি ময়দান থানা এলাকার অন্তর্গত বাইপাসের ধারে নিয়ে আসে ব্রিজেশকে।  কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে একটি  গাড়ি নিয়ে হাজির হয় আরও চারজন। ছ’জন মিলে ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা লুটের চেষ্টা করে। বাধা দেওয়ায় ব্রিজেশকে টেনে হিঁচড়ে একটি গাড়িতে তুলে দমদমের দিকে রওনা দেয় তারা। চলন্ত গাড়ির ভিতর ব্রিজেশকে মারধর করে টাকার ব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। ২৯ অক্টোবর তিনি প্রগতি ময়দান থানায় অপহরণ ও ৮.৯ লক্ষ টাকা লুটের অভিযোগ করেন।  
যে গাড়িতে ব্রিজেশকে তোলা হয়েছিল, সিসি ক্যামেরার সূত্রে তার নম্বর হাতে আসে পুলিশের।  জানা যায়, সেটি পাটুলি এলাকার একটি ট্রাভেল এজেন্সির। গাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বাজেয়াপ্ত করা হয় ওই গাড়ি। ইমোর মোবাইলের সূত্র ধরে সাদ্দাম, সুরজ, সায়নদীপ সহ এই অপরাধে যুক্ত সকলের নাম জানতে পারে পুলিশ। টাওয়ার লোকেশন থেকে জানা যায় সুরজ রয়েছে সিকিমে। পুলিশ সেখানে রওনা দেয়। হোটেলের রুম থেকে গ্রেফতারের সময় বান্ধবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছিল সুরজ। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় লুটের বখরা হিসেবে তিন লাখ টাকা পেয়েছে। বাকিরাও ভাগ পেয়েছে। গার্লফ্রেন্ডের আব্দার মেটাতে সে সিকিম বেড়াতে এসেছে। তাকে জেরা করে সায়নদীপকে পাকড়াও করা হয়। সে পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের ছ’জনের একটি গ্যাং রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ