Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্রেতা সেজে গয়নার দোকানে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা, গ্রেপ্তার এক

ক্রেতা সেজে গয়নার দোকানে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা, গ্রেপ্তার এক
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রেতা সেজে সোনার গয়না ক্রয়ের নামে বিরাট অঙ্কের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে তিনমাস আগে ঘটনাটি ঘটে গড়িয়াহাটে এক অভিজাত জুয়েলারি দোকানে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার অঙ্ক ১১ লক্ষ টাকা মূল্যের। ক্রেতা সেজে এসেই ওই গয়না হাতিয়েছিল প্রতারকরা। সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অবশেষে গত শনিবার ইমতিয়াজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে গড়িয়াহাটা থানা। ভবানীপুর এলাকার একটি ধাবা থেকে ওইদিন রাতে তাকে পাকড়াও করা হয়। অভিযোগ, ইমতিয়াজ নামে ওই ব্যক্তি ওই দোকান থেকে এই গয়না নিয়ে গিয়েছিল। এই কাণ্ডে খোঁজ চলছে আরও দুই অভিযুক্তের। গয়নাগুলি অবশ্য এখনও উদ্ধার হয়নি।

Advertisement

পুলিশ সূত্রের খবর, গত ২৫ মে তিন ব্যক্তি ওই সোনার দোকানে আসে। ক্রেতা হিসেবে বিভিন্ন গয়না দেখতে চায় তারা। বিয়ে উপলক্ষ্যে এই গয়না তারা ‘কিনছে’ বলে দাবি করে। টানা পাঁচদিন ওই দোকানে আসে তারা। প্রতিবারই ডিজাইন বদল করে নতুন গয়না পছন্দ করে। ক্রেতা হিসেবে আসা ইমতিয়াজ দোকান থেকেই ভিডিয়ো কল করে তার এক ‘বসকে’। সে গয়না দেখার পর জানায় যে, এগুলি তার পচ্ছন্দ হয়েছে। ভিডিয়ো কলে থাকা ওই ব্যক্তি দোকান মালিককে জানায়, তার লোক ৩১ মে চেক নিয়ে যাবে এবং গয়নাগুলি ডেলিভারি নেবে ওইদিন। 
নির্দিষ্ট দিন দুপুর দুটো নাগাদ ১১ লক্ষ  টাকার চেক নিয়ে ইমতিয়াজ ওই গয়নার শোরুমে হাজির হয়। চেক নেওয়ার পর গয়না প্যাক করে সেগুলি দিয়ে দেন দোকানের মালিক। ওই জুয়েলারি সংস্থার এক কর্মী আধঘণ্টার মধ্যেই চেকটি ব্যাংকে জমা করে আসেন। তখন অ্যাকাউন্টে টাকা ছিল বলে জানান ব্যাংকের এক কর্মী। চেক ক্লিয়ারিংয়ের সময় বিকেল ৫টা নাগাদ দোকান মালিকের মোবাইলে মেসেজ আসে ‘পর্যাপ্ত ব্যালান্স নেই! তাই চেকটি বাউন্স করেছে’। এরপরই মাথায় হাত পড়ে ওই জুয়েলারি দোকানের মালিকের। ১ জুন তিনি থানায় অভিযোগ জানান।
তদন্তে নেমে পুলিশ চেকটি সংগ্রহ করে। দোকান থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নেওয়া হয়। সেখান থেকেই চিহ্নিত করা হয় একজনকে। দেখা যায়, ২৫ মে থেকে সে দোকানে বারবার আসছে এবং মালগুলি সেই ডেলিভারি নিচ্ছে বলেও ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়। চেকের সূত্র ধরে অ্যাকাউন্ট নম্বর পায় পুলিশ। ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ আরও জানতে পারে, এই অ্যাকাউন্টে যে চেকটি জমা পড়েছিল তাতে সই নিয়ে সমস্যা ছিল। অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখেন চেক জমা পড়ার আগে, ৩১ মে সেখানে ১১ লক্ষ  টাকা ঢুকেছিল। চেক জমা দেওয়ার পর ক্লিয়ারিংয়ে আরও ঘণ্টা দুই লাগে। তদন্তকারী অফিসাররা বুঝতে পারেন, চেক জমা থেকে ক্লিয়ারিংয়ের মাঝেই দোকানে গিয়ে জিনিস হাতিয়েছে অভিযুক্তরা। চেকটি জমা পড়ার কিছুক্ষণ আগেই টাকা ওই অ্যাকাউন্ট থেকে আবার অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়। এই কারণেই ওই অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। 
অভিযুক্ত ইমতিয়াজের ছবি পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় দেখায়। তার ভিত্তিতে এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান যে, লোকটি ভবানীপুরে একটি ধাবায় আসে। সেইমতো পুলিশের টিম ওই শনিবার সেখানে হানা দেয়। অভিযুক্ত সেখানে আসামাত্রই পাকড়াও করা হয় তাকে। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, প্রতারকদের একটি গ্রুপ রয়েছে। এভাবে তারা কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় প্রতারণা করে বেড়াচ্ছে। অভিযুক্তরা সকলেই বন্দর এলাকার বাসিন্দা। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ