নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট থেকে দামি দামি মোবাইল কিনে বন্দর এলাকাসহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, মোবাইলগুলির ডেলিভারি নেওয়া হত রাস্তায়। মোবাইল বিক্রির টাকা পাঠানো হত রাজস্থানে থাকা আন্তঃরাজ্য জালিয়াত চক্রের পান্ডাদের কাছে। এই অভিযোগে মহম্মদ রাহিশ নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে গড়িয়াহাট থানা। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গড়িয়াহাট এলাকার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার মোবাইল ফোন কেনা হয়। ক্রেডিট কার্ডের বিল আসার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর কার্ড ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের পেমেন্ট মেটানো হয়েছে। তিনি গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ জালিয়াতি, প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সমস্ত মোবাইল কেনা হয়েছে একটি ই- কমার্স সংস্থা থেকে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পারে, তারাও বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তাদের নজরে এসেছে, একই কার্ড দিয়ে একাধিক মোবাইল কেনা হয়েছে। প্রত্যেকটি মোবাইল ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকের নিজস্ব ঠিকানায় না গিয়ে ডেলিভারি হয়েছে রাস্তার মোড়ে। এখানেই তাদের সন্দেহের সূত্রপাত। কয়েকদিন আগে বুকিং করা মোবাইল রাহিশ নামে এক যুবক নিতে আসে রাস্তায়। ডেলিভারির সময় তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে ওই ই-কমার্স সংস্থার নিজস্ব টিম। তাকে গড়িয়াহাট থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তারা কেওয়াইসি আপডেট, অফার ইত্যাদির নাম করে ফোন করত বিভিন্ন লোককে। জিনিসপত্র সস্তায় কেনাকাটার টোপ দিয়ে ওই ব্যক্তির ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতানো হত। এরপর ওই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স সংস্থা থেকে দামি দামি মোবাইল কিনত তারা। মোবাইল ডেলিভারির জন্য ডেলিভারি বয়রা যোগাযোগ করলে তাঁদের রাস্তার মোড়ে দাঁড়াতে বলা হত। সেখান থেকে মোবাইল সংগ্রহ করে নিত তারা। এরপর সেগুলি শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হত। চক্রের মূল পান্ডা রয়েছে রাজস্থানে। তার কাছে মোবাইল বিক্রি করে আসা টাকা পাঠানো হত। এভাবেই চলছিল প্রতারণার কারবার। এভাবে ১২ লক্ষ টাকার মোবাইল কিনেছে তারা। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারণার অঙ্ক দু’কোটিতে পৌঁছেছে। এর জন্য ই-কমার্স সংস্থারও আর্থিক লোকসান হয়েছে। কারণ কার্ডের গ্রাহক বিল আসার পর জেনেছেন তাঁর কার্ড ব্যবহার করে জিনিস কেনাকাটা হয়েছে। পুলিশে অভিযোগ আসার পর ই-কমার্স সংস্থার অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।