সংবাদদাতা, তেহট্ট: আরও এক অভিযুক্তকে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি কাণ্ডে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম জাহাঙ্গির শেখ। তার বাড়ি পলাশীপাড়া থানার চড়কপোঁতা এলাকায়। বুধবার তাকে তেহট্ট থানার বিনোদনগর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। প্রসঙ্গত, এলাকার গরিবদের নানান টোপ দিয়ে ব্যাঙ্কে নিয়ে গিয়ে তাদের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণ অনুমোদন করানো হয়। তারপর সেই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সেই কাজের সঙ্গে ব্যাঙ্কের তৎকালীন ম্যানেজার, ফিল্ড অফিসার সহ ছয় জনের বিরুদ্ধে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। প্রতারিতদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস তদন্তে নেমে আগেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এই ঘটনায় ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তৎকালীন ম্যানেজার ও ফিল্ড অফিসার এখনও পলাতক। ধৃতরা পুলিসকে জানিয়েছে, এই ঘটনায় মাস্টার মাইন্ড হচ্ছে তৎকালীন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ও ফিল্ড অফিসার। তারা এজেন্ট হিসাবে কাজ করত।
প্রসঙ্গত, ধৃত জাহাঙ্গির চড়কপোঁতার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ মণ্ডলকে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা দেওয়া হবে বলে টোপ দিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আধার ও ভোটার কার্ড দিয়ে তাঁকে ফর্মে সই করিয়ে ঋণের ১০ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালে। তারপর থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যাঙ্ক কোনও নোটিসও পাঠায়নি। মাস ছয়েক আগে আব্দুল আজিজ মণ্ডল মারা যান। দিন কয়েক আগে তাঁর বাড়িতে ঋণ পরিশোধের নোটিস আসে। আব্দুল সাহেবের মা ফিরোজা বিবি ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ছেলের নামে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এরপরই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিস আগেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির সহ ধৃতদের বলা হয় এলাকার গরিব মানুষদের ব্যাঙ্কে নিয়ে আসতে হবে। সরকার তাঁদের ১০ হাজার টাকা করে দেবে। এরপর জাহাঙ্গির ফিরোজা বিবির ছেলেকে আধার ও ভোটার কার্ড সহ ব্যাঙ্কে নিয়ে যায়। সেখানে ফর্মে সই করিয়ে তাঁর নামে ১০লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে এখন পর্যন্ত ১২ জন থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের নামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা। তবে প্রতারিতর সংখ্যা ৭০-৭৫ ছাড়িয়ে যাবে বলে পুলিসের অনুমান।
পুলিস জানিয়েছে, জাহাঙ্গির সহ ধৃতরা এলাকার গরিব মানুষদের ব্যাঙ্কে নিয়ে যেত। সেখানে তাঁদের নথিপত্র জমা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হতো। আর তাঁদের হাতে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হতো। বাকি টাকা ম্যানেজার, ফিল্ড অফিসার সহ এজেন্টদের মধ্যে ভাগাভাগি হতো। ফলে ওই গরিব মানুষরা ঘুণাক্ষরেও টের পেতেন না তাঁদের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধের নোটিস বাড়িতে যাওয়ার পরই বিষয়টি সামনে আসে।