Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অনুদান রহস্য উন্মোচন জরুরি

অনুদান রহস্য উন্মোচন জরুরি
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
মার্কিন ‘অনুদান’ প্রাপকের নাম নরেন্দ্র মোদি—ভারতের প্রধানমন্ত্রী! এ কোনও পরোক্ষ অভিযোগ বা মেঠো ভাষণ নয়, সরাসরি যিনি আঙুল তুলেছেন তাঁর নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট! বিষয়টি রহস্যে পরিণত হচ্ছে ক্রমে। ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যে’ ভারতকে ২.১০ কোটি ডলার প্রদানের মার্কিন নীতি নিয়ে তোপ দেগে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর নেপথ্য কারণ কী? বিশ্বের সর্বশক্তিমান রাষ্ট্রনায়ক একের পর এক একটি বিস্ফোরক তথ্য দিচ্ছেন! পূর্ববর্তী দু’দিনের মতো শনিবারও প্রাদেশিক গভর্নরদের সম্মেলনে ট্রাম্প মারাত্মক বোমাটি ফাটিয়েছেন! তাঁর দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য, ‘১৮২ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে আমার বন্ধু, ভারতের মোদিকে!’ বিজেপি কিন্তু গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বলে চলেছে, ‘ওই টাকা কংগ্রেস পেয়েছে। ভারত ও মোদি বিরোধী চক্রান্তের জন্যই রাহুল গান্ধীর মাধ্যমে কংগ্রেস এই বিদেশি অনুদান পাচ্ছে।’ তখনই ‘জিগরি দোস্ত’ ট্রাম্প যে এভাবে মোদিকে পথে বসাবেন, তা কল্পনা করেনি গেরুয়া শিবির। প্রথম দিন, পূর্বসূরি জো বাইডেনকে আক্রমণসহ ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ভারতের ভোটার সংখ্যা বাড়াতে আমেরিকা কেন এত কাঁড়ি ডলার খরচ করছে? সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স আদায় করে ভারত। তাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কোনও দরকার নেই। আমেরিকার ভোটারদের বুথমুখী করতেই এই অর্থ খরচ করতে পারে মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু অন্য দেশের ভোটারদের জন্য কেন এত টাকা দেব আমরা? 
Advertisement
অনুদান বিতর্কে শুধু মুখই খোলা নয়, সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও কাঠগড়ায় তুলে দেওয়া হল! ভারতকে মার্কিন অনুদান ইস্যুতে এই নিয়ে তিন তিনবার তোপ দাগলেন ট্রাম্প। স্বভাবতই তোলপাড় শুরু হয় ভারত ও আমেরিকায়। ভারতের এই অনুদানকে ‘কিকব্যাক প্রকল্প’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, এই ধরনের ব্যবস্থা ‘বেআইনি’ বলেই গণ্য হয়। ব্যবসায়িক লাভের বিনিময়ে কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দেশকে বেআইনিভাবে আর্থিক সাহায্য করা হলে তা ‘কিকব্যাক প্রোগ্রাম’ আখ্যা পায়। ট্রাম্পের মতে যা ‘ঘুষ’, তা কাকে এবং কী উদ্দেশ্যে দেওয়া হল? এই প্রশ্নে যখন আমেরিকা ও ভারত একযোগে তোলপাড় তখনই, শনিবার সামনে এল জোড়া রহস্য! বিখ্যাত মার্কিন দৈনিক ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ তাদের অন্তর্তদন্ত সূত্রে জানাচ্ছে, ভারতকে অনুদান দেওয়ার এমন কোনও মার্কিন সরকারি প্রকল্পই নেই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্বয়ং ট্রাম্প বললেন, ‘আমার বন্ধু মোদিকে এই ২১ মিলিয়ন ডলার কেন দেওয়া হচ্ছে তা বুঝতেই পারছি না।’ ভোটার বৃদ্ধির কাহিনি শুনে ট্রাম্পের তির্যক মন্তব্য, ‘আমেরিকাতেও ভোটার বাড়ানো দরকার। কিন্তু এখানে তো কেউ কিছু দিচ্ছে না!’ একদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর দাবি, ভারতকে এরকমভাবে সরকারি অনুদান দেওয়ার কোনও প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেই। আবার তখনই ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে জানাচ্ছেন, ভারতকে ১৮২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তার মানে এটাই ধরে নিতে হবে যে, সরকারি নিয়মের ভেঙেই মোটা অঙ্কের ‘অনুদান’ ভারতে ঢুকেছে! বিজেপি অবশ্য বাংলাদেশে ঢোকা অনুদানের সঙ্গে ভারতের বিষয়টি নিয়ে সংশয়ের জাল তৈরির চেষ্টা করেছে। ভারতের প্রধান শাসক দলের সাফাই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই তথ্য গুলিয়ে ফেলছেন। আর এখানেই লক্ষণীয় যে, ট্রাম্প কিন্তু গোল গোল কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ করেননি, ভারত এবং বাংলাদেশে ঢোকা নির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্ক ফাঁস করেছেন তিনি। তিনি সরাসরি আরও দাবি করেছেন, আমার ‘বন্ধু’ মোদিকেই দেওয়া হয়েছে ২.১০ কোটি ডলার! 
শুক্রবার মোদি সরকারের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মন্তব্য করেছেন, এই অনুদানের বিষয়টি প্রচণ্ড উদ্বেগজনক এবং এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন? মোদিকে কেন ওই অনুদান দেওয়া হল, তার তদন্ত এবার হোক!’ কংগ্রেসের অভিযোগ, ২০১২ সালে ঠিক এভাবেই আন্না হাজারের আন্দোলন বিদেশি অনুদানে পুষ্ট হয়েছিল। কেজরিওয়াল এবং মোদি তার বেনিফিট পেয়েছেন। পবনের দাবি, ‘২০২১ সাল থেকে মোট ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ভারতে এসেছে।’ অতএব সংগত প্রশ্ন, এই অর্থ মোদি সরকার কিংবা বিজেপি কী কারণে নিল? মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় কয়েক লক্ষ ভোটার বেড়ে গেল কোন জাদুতে? মোদিজি কেন তাঁর বন্ধু ট্রাম্পের ‘আজগুবি’ দাবি নস্যাৎ করছেন না? বিদেশ থেকে আসা অনুদানের পাই পয়সার হিসেব থাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে। দম থাকলে মোদি সরকার এবং বিজেপি তার ভিত্তিতে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক। কেন এমন এক বেনজির কাণ্ডে দেশের মুখমান কালিমালিপ্ত হবে? শুল্ক দ্বৈরথে ভারতকে বাগে আনতে ট্রাম্পের এ কোনও চাল নয় তো? সেটাও ভেবে দেখা দরকার!
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ