নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভূগর্ভ থেকে জল তুলে বিক্রির উপর রাশ টানতে চলেছে রাজপুর সোনারপুর পুরসভা। অম্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ শুরু হয়ে গেলে জলের কারখানাগুলিকে আর ভূগর্ভ থেকে জল উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিককে টাকার বিনিময়ে (কমার্শিয়াল লাইন) পুরসভার জলের লাইনের সংযোগ নিতে হবে।
বর্তমানে পুরসভা এলাকার বহু জায়গায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বোতলবন্দি জলের কারখানা। অভিযোগ, তার মধ্যে একটা বড় অংশই চলছে ছাড়পত্র ছাড়াই। বেশ কয়েকটি কারখানায় ইতিমধ্যেই অভিযান চালানো হয়েছে। সতর্কও করেছে প্রশাসন। কিন্তু তাতে খুব বেশি লাভ হয়নি। যারা জল তুলে পরিশোধন করে বিক্রি করছে, তারা পুরসভাকে কোনও টাকা দেয় না বলেই জানা গিয়েছে। তাই এই সমস্ত কারখানাকে বাগে আনতে নয়া কৌশল নিতে চলেছে পুর কর্তৃপক্ষ। চেয়ারম্যান পল্লব দাস বলেন, ভূগর্ভে জলস্তর ঠিক রাখতে হলে কিছু কঠোর পদক্ষেপ করতেই হবে। জলের কারখানাগুলিকে বলা হবে, নির্ধারিত ফি দিয়ে পুরসভার জলের সংযোগ নিয়ে ব্যবসা করতে।
আরেকটি বিষয় হল, সোনারপুর ব্লকের কিছু অংশে ভূগর্ভের জলে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি আর্সেনিক রয়েছে। স্টেট ওয়াটার ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সেখানকার জলের নমুনা পরীক্ষা করে আর্সেনিকের অস্তিত্ব পায় এবং তার ফলে যাঁরা জলের কারখানার জন্য আবেদন করেছিলেন, তা বাতিল করে দেয় পুরসভা। কালিকাপুর গ্রামের চাঁদপুর মৌজায় ভূগর্ভের জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে লিটার প্রতি ০.০২৫ মিলিগ্রাম আর্সেনিক রয়েছে। আবার পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগদ্দল মৌজায় এক গৃহস্থ টিউবওয়েল বসানোর জন্য আবেদন করছিলেন। কিন্তু সেখানে সমপরিমাণ আর্সেনিক মেলায় তাঁকেও অনুমতি দেওয়া হয়নি।