Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিহারের ট্রাকচালক থেকে এলাকার নিয়ন্তা হওয়ার বদলা নিয়েছে একদা আশ্রয়দাতারা

বেলঘরিয়ায় তৃণমূল কর্মীকে খুনের ঘটনায় এক শ্যুটার এখনও পলাতক। তার খোঁজে পুলিস এ রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্যেও তল্লাশি চালাচ্ছে

বিহারের ট্রাকচালক থেকে এলাকার নিয়ন্তা  হওয়ার বদলা নিয়েছে একদা আশ্রয়দাতারা
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বেলঘরিয়ায় তৃণমূল কর্মীকে খুনের ঘটনায় এক শ্যুটার এখনও পলাতক। তার খোঁজে পুলিস এ রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্যেও তল্লাশি চালাচ্ছে। পুলিস জেনেছে, মদের আসরে দু’টি আলাদা বন্দুক থেকে গুলি করে মহম্মদ এনায়েতুল্লা ওরফে রেহানকে খুন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিহার থেকে বেলঘরিয়ায় এসে ট্রাকচালক রেহান ধীরে ধীরে এলাকার নিয়ন্তা হয়ে ওঠ। ফলে তার বেশ কিছু শত্রুও তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত একদা আশ্রয়দাতারাই তাকে সরিয়ে ফেলার নীল নকশা সাজিয়েছিল। এরপর তার পরিচিতদের ব্যবহার করে পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয় রেহানকে।

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কামারহাটি পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাজীবনগরে তৃণমূল কর্মী মহম্মদ এনায়েতুল্লা খুন হয়। বাড়ি থেকে ৭০ মিটার দূরে রাতভর পড়েছিল তার গুলিবিদ্ধ দেহ। ওইদিন দুপুরেই সে সিমলা থেকে ঘুরে বাড়ি ফিরেছিল। পুলিস তদন্তে নেমে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিহারের বৈশালি জেলার বাসিন্দা রেহান প্রথম জীবনে ট্রাক চালাত। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের নীচে রাজীবনগরে অন্যান্য চালকদের মতো সে ট্রাক পার্ক করত। বালি, ইট আনার সূত্রে প্রোমোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় রেহানের। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল ধৃত সুশান্ত রায়। ট্রাকের সামগ্রী আনলোডের সময় একবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিল সে। তখন তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর ট্রাক চালাতে পারত না। সেই সময় সুশান্ত সহ এলাকার সিন্ডিকেট মেম্বারদের সহযোগিতায় সে রাজীবনগরে থাকতে শুরু করে। এরপর এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া সরকারি জমি দখল করে বিক্রি, সিন্ডিকেট ব্যবসা ও জুয়া-সাট্টার বোর্ড বসানোর চক্রে জড়িয়ে পড়ে। কিছুদিনের মধ্যেই সিন্ডিকেট  চক্রের মাথা সুশান্তর বিরুদ্ধে সে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পৃথক দল তৈরি করে। এলাকার সিন্ডিকেট ও অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বছরখানেক আগে সুশান্তর সঙ্গে রেহানের বিবাদ হয়। সেবার বন্দুকের বাট দিয়ে রেহানকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল সুশান্ত। এরপর স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকার দখল নেয় রেহান। মাস ছয়েক আগে এই এলাকাতেই নয়নজুলি বুজিয়ে টিন দিয়ে ঘর তৈরি করে থাকতে শুরু করে। পুলিস জানিয়েছে, রেহানের বিরুদ্ধে ডাকাতির পরিকল্পনা থেকে তোলাবাজি, মারামারি সহ আট-দশটি মামলা রয়েছে। সে যখন সিমলায় বেড়াতে গিয়েছিল, তখনই তাকে চিরতরে সরানোর ছক কষা হয়েছিল। সেইমতো মঙ্গলবার রাতে খুন করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ