Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনুব্রতর সঙ্গে কাজল শেখের তরজা অব্যাহত

অনুব্রতর সঙ্গে কাজল শেখের তরজা অব্যাহত
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: বীরভূমে কেষ্ট-কাজলের দ্বৈরথ চলছেই। দু’জনের বাক্‌যুদ্ধে নিত্যদিন সরগরম থাকছে জেলা রাজনীতি। বুধবার নলহাটিতে অনব্রত মণ্ডলের মুখ খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা দিতে ছাড়েননি কাজল শেখ। দু’জনেই জেলা তৃণমূলের শীর্ষপদে। একজন, জেলা সভাপতি। সংগঠনের দায়িত্বে। অন্যজন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি। প্রশাসনিক দায়িত্বে। দুই নেতার এমন নজিরবিহীন লড়াইয়ে অস্বস্তি বাড়ছে শাসক দলের। কিন্তু জেলার অন্যান্য শীর্ষনেতারা আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। তবে, সুযোগ বুঝে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি।    
Advertisement
বুধবার নলহাটির একটি মাজারে চাদর চড়াতে গিয়েছিলেন  অনুব্রত। সেখানে তিনি মুখ খোলার পর রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক ভিডিও পোস্ট করেন কাজল। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কাউকে প্রণাম করা মানে মাথা নত করা নয়, ‌বরং সম্মান করা। কেউ যদি তা না বোঝেন, তা হলে  ইটের জবাব আমাকে পাটকেলেই দিতে হবে।’ 
বীরভূমে কেষ্ট-কাজলের তেতো সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। মাঝে মধ্যে এ নিয়ে জলঘোলা হলে কাজল বলতেন, ‘কেষ্ট দা আমার রাজনৈতিক গুরু।’ কিন্তু তলে তলে দু’জনের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই চলত বলে রাজনৈতিক মহলের মত। তার পর গোরুপাচার মামলায় কেষ্টর গ্রেপ্তার এবং তিহার যাত্রা। তৃণমূলের গোষ্ঠী সমীকরণে কার্যত খোলা ময়দান পেয়ে যান কাজল। দক্ষতার সঙ্গে সংগঠনও সামলান। তাতে সু‌ফল মেলে। পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা—মারকাটারি সাফল্য পায় তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবেই দলে খানিক কোণঠাসা হয়ে পড়ে অনুব্রত শিবির। এর পর তিনি তিহার থেকে ফিরলে ছবিটা দ্রুত বদলাতে থাকে। পোড় খাওয়া কেষ্ট জমি পুনরুদ্ধারে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার আহ্বান জানান। ঘোষণা করেন, ‘আমি নিমিত্তমাত্র। দলের কর্মীরাই সব।’ সেই আহ্বানে ঐক্যের ছবি দেখা যায় বছরের শুরুতেই। বোলপুরের হস্তশিল্প মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে একে অপরের হাত ধরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন সবার নজর কাড়ে। কিন্তু কি এমন ঘটল যে, একমাসের মধ্যে দু’জনেই ফের সম্মুখ সমরে? 
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, জেলা পরিষদের পিছিয়ে পড়া নিয়ে কেষ্টর উষ্মা প্রকাশ ও দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ—কোনওটাই ভালোভাবে নিতে পারেননি কাজল। সেই কারণেই ‘রাজনৈতিক গুরু’র বিরুদ্ধে  খড়্গহস্ত হন তিনি। সিউড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে অনুব্রতকে লাগামছাড়া আক্রমণ করেন কাজল। নাম না করে চক্রান্তকারী, কাটমানি পাচ্ছেন না বলে অনুব্রতকে কটাক্ষ করেন। বুধবার নলহাটিতে কাজলকে পাল্টা দেন অনুব্রত।  বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। কে কি বলল, তাকে পাত্তা দিতে নারাজ। আমি জেলা সভাপতি ছিলাম, আছি।‌’ 
পাল্টা ওই ভিডিও বার্তায় কাজল কিছুটা হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘সবাইকে সংযত থাকার কথা বলব। প্রথম থেকে বীরভূমের জেলা সভাপতির পদে কে ছিলেন, এই নিয়ে আমাকে মুখ না খোলালেই ভালো। যেখানে সেখানে আলটপকা মন্তব্য না করে বিষয়টি দলের অভ্যন্তরে রাখাই ভালো। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই দলটা করছি। ‌দক্ষিণপন্থী হওয়ায় আমাকে অনেকবার মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কেউ দমাতে পারেনি। পারবেও না। আমি কারও কাছে মাথা নত করিনি। করবও না।’ এরপরেই তাঁর সংযোজন, ‘কাউকে প্রণাম করার অর্থ মাথা নত করা নয়, সম্মান দেওয়া।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ