Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোন মাপকাঠিতে বাছাই পিএমশ্রীতে, প্রশ্ন উঠছে কলকাতার স্কুলগুলির তালিকায়

পিএমশ্রী প্রকল্পে কলকাতার ২৮২টি স্কুলের নাম নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। কী কারণে এই তালিকা তৈরি হল? বিস্তারিত জানুন।

কোন মাপকাঠিতে বাছাই পিএমশ্রীতে, প্রশ্ন উঠছে কলকাতার স্কুলগুলির তালিকায়
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুলশিক্ষার ক্ষেত্রে পিএমশ্রী কেন্দ্রীয় সরকারের একটি উচ্চাকাঙ্খী প্রকল্প। এর অধীনে দেশজুড়ে তৈরি হচ্ছে ১৪ হাজার মডেল স্কুল। তৃণমূল সরকার এই প্রকল্পে রাজ্যের অংশীদারি সত্ত্বেও কেন প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকবে এই প্রশ্ন তুলে প্রকল্পের মউ স্বাক্ষর করেনি। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি মউয়ে সই করেছে। তাই রাজ্যেও এই প্রকল্প শুরু হতে চলেছে। তবে তার আগে স্কুল বাছাই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোন মাপকাঠিতে পিএমশ্রী প্রকল্পের অধীনে স্কুলগুলিকে আনা হবে তা নিয়ে সুস্পষ্ট দিশা নেই বলে দাবি শিক্ষামহলের।

Advertisement

সম্প্রতি কলকাতার ২৮২টি স্কুলের নাম প্রাথমিক বাছাই তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ এই স্কুলগুলিই ৮ জুনের মধ্যে আবেদন জানাতে পারবে মডেল স্কুলে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য। কিন্তু এই নামগুলি নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। মডেল স্কুলে যদি পড়ুয়াই না থাকে, তাহলে কী লাভ? এ প্রশ্ন উঠছে। কারণ তালিকায় এমন স্কুল রয়েছে যেখানে পড়ুয়া সংখ্যা ৯০-এর আশপাশে। ১০০-এর নীচে পড়ুয়া সংখ্যাবিশিষ্ট স্কুলের সংখ্যা ভুরি ভুরি। ১০০ বা তার চেয়ে কিছু বেশি পড়ুয়ার স্কুল ধরলে সংখ্যাটি বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হসপিটাল লেনে ৯১ জন পড়ুয়ার পুরসভা পরিচালিত একটি উচ্চ প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত রয়েছে। আবার অন্যদিকে এমন প্রাথমিক স্কুলও আছে যেগুলির পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় হাজার ছুঁই ছুঁই। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বাগবাজার মাল্টিপারপাস গার্লস স্কুল, (১ হাজার ৭৫১ ছাত্রী), খান্না হাইস্কুল ফর গার্লস (২ হাজার ৮৬ ছাত্রী), টাকি হাউস গভর্নমেন্ট স্পনসরড মাল্টিপারপাস স্কুল ফর বয়েজ (২ হাজার ৩৭৭ ছাত্র), গার্ডেনরিচ কে সি মিলস হাইস্কুল (২ হাজার ৩৬৬ পড়ুয়া) প্রভৃতি তালিকায় রয়েছে যেগুলির পড়ুয়া সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে রয়েছে যাদবপুর বিদ্যাপীঠ, যাদবপুর হাইস্কুল, সরস্বতী বালিকা বিদ্যালয় ও শিল্প সদন, বেথুন কলেজিয়েট স্কুল, শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের মতো স্কুল। সেগুলি পরিকাঠামো এবং পারফরম্যান্সে অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল হওয়া সত্ত্বেও পড়ুয়া সংখ্যা ৫০০-এর আশপাশে থাকা প্রতিষ্ঠানও কম নয়। রাজ্যের সমগ্র শিক্ষা মিশন নাকি শিক্ষা মন্ত্রকই ইউডাইস রিপোর্টের ভিত্তিতে স্কুলগুলি বেছেছে, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী মত উঠে আসছে। শিক্ষকদের বক্তব্য, দুর্বল, ধুঁকতে থাকা স্কুলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে তবু একটা যুক্তি থাকে। আবার এগিয়ে থাকা স্কুলগুলিকে মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলাও একটা নীতি হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কোনো ফর্মুলাই খাটছে না। সিংহভাগ স্কুলেরই মাঠ নেই। অথচ ক্রীড়াচর্চার দিকটি পিএমশ্রীতে গুরুত্বপূর্ণ। আবার আবেদনের জন্য স্কুলগুলিকে স্থানীয় কাউন্সিলারের সই নিতে হবে। রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে কাউন্সিলারদের পাওয়াই এখন দায়। এ ধরনের সমস্যা নিয়েও সরব শিক্ষকরা। 

সম্পর্কিত সংবাদ