Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

কোন শর্তে যুদ্ধবিরতি? জানতে চায় দেশ, আজ ভারত-পাকিস্তান বৈঠক

কোন শর্তে যুদ্ধবিরতি? জানতে চায় দেশ, আজ ভারত-পাকিস্তান বৈঠক
  • ১২ মে, ২০২৫ ১১:০৫
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: হঠাৎ যুদ্ধবিরতি কেন? হঠাৎ আমেরিকাই বা কেন ভারত ও পাকিস্তানের  সংঘাতের অবসানের ঘোষণা করল? শনিবার বিকেলের পর থেকে দেশজুড়ে এই প্রশ্নই সবথেকে বড় আকার নিয়েছে দেশবাসীর চর্চায়। কতদিন থাকবে যুদ্ধবিরতি? এবং কোন শর্ত চালিকাশক্তি হবে? আজ, সোমবার দুপুর ১২টায় ভারত ও পাকিস্তানের দুই ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস আলোচনায় বসবেন। সেখানেই স্থির হবে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ। নতুন কোনও যুদ্ধবিরতি এগ্রিমেন্ট কি হতে চলেছে? তার শর্ত কী হবে? এই তাবৎ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গোটা দেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি  দাবি করেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ভারত সরকার কোন পরিস্থিতিতে মেনে নিয়েছে এবং এ পর্যন্ত কী ঘটেছে সেটা জানাক সরকার। সংসদের বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হোক। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বহু সংঘাত হয়েছে বিগত ৭৮ বছরে। কিন্তু ভারত লাগাতার ঘোষিত অবস্থান বজায় রেখেছে যে, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা কাশ্মীর সহ কোনও ইস্যুতেই মেনে নেবে না। সেক্ষেত্রে কি ভারতের অবস্থান বদলে যাচ্ছে? ভারত ও পাকিস্তানের আগে তাহলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেন ঘোষণা করে দিলেন যে, দুই দেশ যুদ্ধ পরিস্থিতি থামাতে রাজি হয়েছে! এমনকী ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার মধ্যস্থতাতেই এটা সম্ভব হল। রবিবারও একই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শনিবার এই আবহে কোনও উচ্চবাচ্য না করলেও রবিবার বিকেলে কিন্তু ভারত সরকার জানিয়েছে, আমেরিকার মধ্যস্থতা মেনে নিয়ে যুদ্ধবিরতি করা হয়েছে—এই দাবি ভিত্তিহীন। বস্তুত পাকিস্তানই ভারতের প্রত্যাঘাতে কোণঠাসা হয়ে সংঘাত থামাতে মরিয়া আবেদন করেছে। তারপর মার্কিন বিদেশ সচিব এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতকে বলেছেন, ‘পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইছে। ভারত কী চাইছে?’ ভারত সরকার এরপর আমেরিকাকে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান যদি কোনও নতুন আগ্রাসন না দেখায় তাহলে ভারতও সংযত থাকবে। কিন্তু পাকিস্তান সামান্যতম আক্রমণাত্মক হলেই ভারত এর থেকেও কঠোর জবাব দেবে। এরপরই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। ভারতের প্রত্যাঘাতে শুধু অধিকৃত কাশ্মীরেই ৪০ পাক সেনা প্রাণ হারিয়েছে বলে রবিবার সন্ধ্যায় সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ মানেটা স্পষ্ট, পশ্চিমি মিডিয়া বা পাকিস্তান যাই দাবি করুক না কেন, ব্যাকফুটে ইসলামাবাদই ছিল। আর এই পরিস্থিতিতে আজ ভারত ও পাকিস্তানের দুই ডিজিএমও’র বৈঠক। ওই আলোচনার পর কি স্পষ্ট হবে যে, যুদ্ধবিরতির কারণ কী? 

Advertisement

ভারতের এই ব্যাখ্যার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের দাবি, শুক্রবার বিকেলে কার্যত নাটকীয় কিছু পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তারপরই সংঘাত ঠেকাতে মরিয়া হয়ে আসরে নামে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গোয়েন্দা সূত্রে হোয়াইট হাউস হঠাৎ জানতে পারে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সংঘাত আপাতত ড্রোন ও মিসাইল আক্রমণে সীমাবদ্ধ রয়েছে, সেটি পরমাণু যুদ্ধে বদলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসন পরমাণু শব্দটি ব্যবহার করেনি। তাদের বক্তব্য ‘মারাত্মক এক সংঘাত পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এই যুদ্ধ’। এরপরই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন। তখন মধ্যরাত। মোদিকে ভান্স বলেন, ‘আপনাদের সরাসরি কথা বলা দরকার। পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ দিকে যাচ্ছে।’ ততক্ষণে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও পাক সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরকে ফোন করেছেন। এরপর রুবিও কথা বলেছেন ভারত ও পাকিস্তানের দুই বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও। উভয়কেই তাঁর বার্তা ছিল, সংযত হওয়ার সময় এসেছে। আমেরিকা আলোচনায় সবরকমভাবে সহায়তা করতে রাজি। একটি ড্রাফ্ট এগ্রিমেন্ট তৈরি হোক। তবে সেটা দু’পক্ষকেই করতে হবে। শনিবার সকালে এই আলোচনায় প্রবেশ করেন সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী ফয়জল বিন ফারহান। তিনিও দুই বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আবেদন করেন যুদ্ধবিরতির। 
কেন আমেরিকা মরিয়া হয়ে যুদ্ধবিরতি চাইল? জানা যাচ্ছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভারত পাকিস্তানের যে ৮টি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, তার মধ্যে নুর খান এয়ারবেসের অদূরেই রয়েছে পাক পরমাণু স্টোরেজ ফেসিলিটি। পাকিস্তান আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সেই আতঙ্কেই ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির বৈঠক ডাকেন পাক প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ যে কমান্ডের হাতে পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা। আমেরিকার আশঙ্কা প্রবল আকার ধারণ করে। দ্রুত শুরু হয় যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর করার প্রয়াস। পাকিস্তানকে কার্যত নির্দেশ দেয় আমেরিকা—ভারতের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সেইমতোই আমেরিকার নির্দেশ অনুযায়ী দুপুর ১টায় পাকিস্তানের ডিজিএমও ভারতের কাছে বৈঠকের সময় চান। দুপুর ৩টে ৩৫’এ দুই ডিজিএমও ফোনে কথা বলেন। সিদ্ধান্ত হয় যুদ্ধবিরতির! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ