সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: হঠাৎ যুদ্ধবিরতি কেন? হঠাৎ আমেরিকাই বা কেন ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাতের অবসানের ঘোষণা করল? শনিবার বিকেলের পর থেকে দেশজুড়ে এই প্রশ্নই সবথেকে বড় আকার নিয়েছে দেশবাসীর চর্চায়। কতদিন থাকবে যুদ্ধবিরতি? এবং কোন শর্ত চালিকাশক্তি হবে? আজ, সোমবার দুপুর ১২টায় ভারত ও পাকিস্তানের দুই ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস আলোচনায় বসবেন। সেখানেই স্থির হবে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ। নতুন কোনও যুদ্ধবিরতি এগ্রিমেন্ট কি হতে চলেছে? তার শর্ত কী হবে? এই তাবৎ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গোটা দেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ভারত সরকার কোন পরিস্থিতিতে মেনে নিয়েছে এবং এ পর্যন্ত কী ঘটেছে সেটা জানাক সরকার। সংসদের বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হোক। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বহু সংঘাত হয়েছে বিগত ৭৮ বছরে। কিন্তু ভারত লাগাতার ঘোষিত অবস্থান বজায় রেখেছে যে, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা কাশ্মীর সহ কোনও ইস্যুতেই মেনে নেবে না। সেক্ষেত্রে কি ভারতের অবস্থান বদলে যাচ্ছে? ভারত ও পাকিস্তানের আগে তাহলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেন ঘোষণা করে দিলেন যে, দুই দেশ যুদ্ধ পরিস্থিতি থামাতে রাজি হয়েছে! এমনকী ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার মধ্যস্থতাতেই এটা সম্ভব হল। রবিবারও একই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শনিবার এই আবহে কোনও উচ্চবাচ্য না করলেও রবিবার বিকেলে কিন্তু ভারত সরকার জানিয়েছে, আমেরিকার মধ্যস্থতা মেনে নিয়ে যুদ্ধবিরতি করা হয়েছে—এই দাবি ভিত্তিহীন। বস্তুত পাকিস্তানই ভারতের প্রত্যাঘাতে কোণঠাসা হয়ে সংঘাত থামাতে মরিয়া আবেদন করেছে। তারপর মার্কিন বিদেশ সচিব এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতকে বলেছেন, ‘পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইছে। ভারত কী চাইছে?’ ভারত সরকার এরপর আমেরিকাকে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান যদি কোনও নতুন আগ্রাসন না দেখায় তাহলে ভারতও সংযত থাকবে। কিন্তু পাকিস্তান সামান্যতম আক্রমণাত্মক হলেই ভারত এর থেকেও কঠোর জবাব দেবে। এরপরই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। ভারতের প্রত্যাঘাতে শুধু অধিকৃত কাশ্মীরেই ৪০ পাক সেনা প্রাণ হারিয়েছে বলে রবিবার সন্ধ্যায় সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ মানেটা স্পষ্ট, পশ্চিমি মিডিয়া বা পাকিস্তান যাই দাবি করুক না কেন, ব্যাকফুটে ইসলামাবাদই ছিল। আর এই পরিস্থিতিতে আজ ভারত ও পাকিস্তানের দুই ডিজিএমও’র বৈঠক। ওই আলোচনার পর কি স্পষ্ট হবে যে, যুদ্ধবিরতির কারণ কী?



