Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬

৩৬ বছর আগে একই দিনে পানামার শাসককে বন্দি করেছিল আমেরিকা

মার্কিন হামলার পর টালমাটাল অবস্থা ভেনেজুয়েলার।‘বন্দি’ হয়েছেন সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তবে এই প্রথম নয়, বারবার লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলিকে নিশানা করেছে আমেরিকার

৩৬ বছর আগে একই দিনে পানামার শাসককে বন্দি করেছিল আমেরিকা
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মার্কিন হামলার পর টালমাটাল অবস্থা ভেনেজুয়েলার।‘বন্দি’ হয়েছেন সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তবে এই প্রথম নয়, বারবার লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলিকে নিশানা করেছে আমেরিকার। ঘটনাচক্রে ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালাল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহিনী। ৩৬ বছর আগেই এইদিনই মার্কিন সেনার হাতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন পানামার সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা। ইতিহাসবিদের মতে, সেবার পানামায় বসবাসকারী আমেরিকার নাগরিকদের সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে সেনা পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এইচ ডব্লু বুশ। নোরিয়েগার বিরুদ্ধেও মাদক পাচার, ভোটে কারচুপি, মার্কিন সেনা হত্যার অভিযোগ তুলেছিল ওয়াশিংটন। তাই সেনা অভিযানের অন্যতম  লক্ষ্য ছিল, নোরিয়েগা সবক শেখানো। সেইমতো শুরু হয় ‘অপারেশন জাস্ট কজ’। ২০ হাজার মার্কিন সেনা পানামার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি দখল করে নেয়। সরকারি হিসেবে লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন পানামার ৫১৪ জন সেনা ও সাধারণ মানুষ। যদিও বেসরকারি মতে, সংখ্যাটা প্রায় ১ হাজার। অন্যদিকে, ২৩ জন মার্কিন সেনারও মৃত্যু হয়। আমেরিকার বাহিনীর হাত থেকে গ্রেপ্তারি এড়াতে ভাটিকানের কূটনৈতিক দূতাবাসে আশ্রয় নেন নোরিয়েগা। তাঁকে বাইরে বের করতে  দূতাবাসের বাইরে তারস্বরে গান বাজাতে শুরু করে বুশ-বাহিনী। যাতে শব্দ-দানবের জ্বালায় বাইরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন পানামার শাসক! যদিও তুমুল বিতর্ক শুরু হওয়ায় এই কৌশল থেকে সরে আসে মার্কিন সেনা। অবশেষে ১১দিনের মাথায় আত্মসমর্পণ করেন নোরিয়েগা। আমেরিকার মাদক বিরোধী সংস্থা তাঁকে মায়ামি নিয়ে আসে। জীবনের বাকি অংশ বন্দি অবস্থাতেই কেটেছিল পানামার শাসকের। 

Advertisement


পাঁচের দশক থেকেই একের পর এক দেশকে নিশানা করেছে আমেরিকা। নেপ্থ্য ছিল গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাকোবা আরবেনজকে সরাতে সক্রিয় হয়েছিল তারা। কিউবাতেও নজর ছিল পেন্টাগনের। ফিদেল কাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যূত করতে বারবার চেষ্টা চালিয়েছে। বলা হয়, রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার কাস্ত্রোকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। বলিভিয়াতে চে গেভারাকে গ্রেপ্তার ও হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। শোনা যায়, ১৯৬৪ সালে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ভিক্টর পাজের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানে অর্থ ও সমর্থন জুগিয়েছিল আমেরিকা। এছাড়া, চিলি, উরুগুয়ে, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিলের মতো দেশেও বারবার নামে-বেনামে অপারেশন চালিয়েছে আমেরিকা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ