Bartaman Logo
২০ আগস্ট, ২০২৬

বিজেপির আড়াই হাজারি জুমলা! দু’বছর পরও দিল্লির ‘লক্ষ্মী’দের ভাতা তালাবন্দি

যে কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার শর্ত থাকে। কিন্তু সরকারি ভাতা কাগজে কলমে থাকবে, অথচ সাধারণ মানুষ তা ছুঁতে পারবে না—এরকমও হয়?

বিজেপির আড়াই হাজারি জুমলা! দু’বছর পরও দিল্লির ‘লক্ষ্মী’দের ভাতা তালাবন্দি
  • ২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যে কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার শর্ত থাকে। কিন্তু সরকারি ভাতা কাগজে কলমে থাকবে, অথচ সাধারণ মানুষ তা ছুঁতে পারবে না—এরকমও হয়? সেটাও হচ্ছে দিল্লির বিজেপি সরকারের লক্ষ্মী যোজনায়। সেপ্টেম্বর থেকে দেওয়ার কথা মাসে আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু শর্তের যা বহর দেখা যাচ্ছে, তাতে দিল্লির মহিলারা পাবেন মাত্র হাজার টাকা। সেটাও নগদ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নয়, ডিজিটাল ওয়ালেটে। বাকি ১৫০০ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে চলে যাবে রেকারিং অথবা ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে। সেটাও ‘তালাবন্দি’ হয়ে থাকবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। ফলে এই মুহূর্তে দেশের রাজধানী রাজ্য দিল্লির কমবেশি ৭০ লক্ষ মহিলার গবেষণার বিষয় হল, আদৌ কারা এই ভাতা পাবেন এবং কতটা পাবেন? আদৌ পাবেন তো?

Advertisement

২০২৫ সালে ছিল দিল্লি বিধানসভার ভোট। ২০২৪ সাল থেকেই বিজেপি দিল্লি দখলের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে, জয়ী হলে মাসে ২৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে সব মহিলাকে। কোনো ঝাড়াই বাছাই হবে না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৭ বছর পর দিল্লিতে সরকারে আসে বিজেপি। এসেই জানিয়ে দেয়, সব মহিলা কিন্তু টাকা পাবেন না। ভাগ্য সদয় হবে শুধু দরিদ্রদের। তারপর দু’বছর কেটে গিয়েছে। সেই লক্ষ্মী যোজনা কিন্তু চালু হয়নি। অবশেষে স্থির হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাস হতে চলেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সঙ্গে এসেছে শর্তাবলির বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি। তা দেখেই মাথায় হাত মহিলাদের। কী সেই শর্ত? ১) ১৫০০ টাকা সরাসরি রেকারিং অথবা ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়া হবে। তাও আবার সেই অ্যাকাউন্ট ২০২৯ সাল পর্যন্ত লকড-ইন থাকবে। অর্থাৎ লোকসভা ভোটের বছরের আগে টাকা পাওয়া যাবে না।  বাকি হাজার টাকা ট্রান্সফার করা হবে সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি ওয়ালেটে। ২) কেউ সম্মতি দিলে পুরো ২৫০০ টাকাই রেকারিং অথবা ফিক্সড ডিপোজিটে চলে যাবে। সোজা কথায় কোনো অবস্থাতেই ২৫০০ টাকা মাসে খরচের জন্য হাতে পাওয়া যাবে না। এখানেই শেষ নয়। যে হাজার টাকা ওয়ালেটে আসবে, তা খরচের নির্দেশিকাও দিল্লি সরকার দিয়ে দিয়েছে। সরকারি তালিকায় যে নেগেটিভ লিস্ট রয়েছে, সেইসব পণ্য-পরিষেবায় টাকা খরচে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। যেমন মদ, লটারির টিকিট, বিড়ি, সিগারেট, তামাক। বেটিং করাও বারণ। এখানেই শেষ? না। যদি তিনের অধিক সন্তান থাকে, তাহলে সে অযোগ্য। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ টাকা আদায় করে যদি ধরা পড়ে, তাহলে রুজু করা হবে প্রতারণার মামলা। তখন তার থেকে সব টাকা আদায় করা হবে। ১৮ থেকে  ৬০ বছর বয়সি ১৭ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। আম আদমি পার্টির নেতা গোপাল রাই বলেছেন, ‘খুব বেশি হলে এসব শর্ত পূরণ করে ১০ শতাংশ মহিলা টাকা পাবেন। গরিব মহিলাদের সঙ্গে এই জুমলা প্রকল্পের প্রতারণা করা উচিত হয়নি।’ 
কিন্তু সবের আড়ালে অঘোষিত শর্তটি কী? ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা ট্রান্সফারের জন্য সবার আগে দরকার স্মার্ট ফোন! অর্থাৎ সরকার নিশ্চিত, দিল্লির ১৭ লক্ষ গরিব মহিলার কাছে স্মার্ট ফোন আছে! সেই যে করোনাকালে ব্যালকনি থেকে থালাবাসন বাজানোর নিদান দেওয়া হয়েছিল, তখনও তো সরকার নিশ্চিত ছিল যে, ১৪০ কোটির সবার ব্যালকনি আছে! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ