সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: এই বংশের এক মহিলা নবমীতে দুর্গার নামে সংকল্প করে নিজের বুক চিরে রক্ত উৎসর্গ করেন। জয়নগর-মজিলপুরের চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে পুজো শুরু হয় ২১১ বছর আগে, স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর। প্রথা আর ঐতিহ্য মেনে অষ্টমীর দিন এখনও হয় জোড়া কুমারী পুজো। এ বাড়িতে একসময় পদধূলি পড়েছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর। দুর্গাদালানে এখন চলছে প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি।
জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে চট্টোপাধ্যায় বাড়ি। বনেদিয়ানার স্পষ্ট ছাপ ইটের গাঁথনিতে। বাড়িতে দণ্ডায়মান বিদ্যাসাগরের মূর্তি। সেটি পরিবারের এক সদস্য বানিয়েছিলেন। এই পরিবারের
হরিভূষণ চট্টোপাধ্যায় একসময় জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার কাউন্সিলার ছিলেন। হরিসাধন চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের অধ্যক্ষ। মজিলপুর ব্যায়াম সমিতির অনুষ্ঠানে সে সময় যোগ দিয়েছিলেন নেতাজি। তখন দুই চট্টোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে তিনি বাড়িতে আসেন। এই পরিবারের ৮১ বছরের সুভাষকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পূর্বপুরুষ নীলমণি চট্টোপাধ্যায় ও সুশীলাবালা চট্টোপাধ্যায় স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন দূর্গাপুজো করার। আমাদের একচালার দুর্গা। পরিবারের লোকজন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। সবাই পুজোয় সময় এসে মিলিত হন। আমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন বলিদানের বিরুদ্ধে। তাই নবমীর দিন মায়ের নামে সংকল্প করে বুক চিরে রক্ত দেওয়া হয়। আমার মেয়ে তা দেয়। এরপরে মালসায় ধুনো নিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। তারপর হয় হোম।‘ পরিবারের মহিলা সদস্য সায়নী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সাধক দিবাকর ভট্টাচার্য এই বাড়ির পুজো করেছিলেন। পুজোর প্রত্যেক দিন সকালে দু’বার মাকে ভোগ দেওয়া হয়। দিনে খিচুড়ি ভোগ সঙ্গে বিভিন্ন ভাজা ও পরে সাদা ভাত সহ ভাজা, কয়েকটি মাছের পদও দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় লুচি, আলু ভাজা, নাড়ু, সুজি। প্রচুর লোকজন আসেন পুজো দেখতে। ভোগ তাঁদেরও খাওয়ানো হয়।’ অন্য এক সদস্য শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের পর অপরাজিতা পুজো হয়। তারপরে শান্তির জল ছড়ানোর রীতি। এইভাবেই পরিবারে পুজো চলে আসছে।’ নিজস্ব চিত্র