সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: প্রায় সাড়ে ছশো বছর পুরনো জমিদার বাড়িটির লাল ইটে শ্যাওলা ধরেছে। দেওয়াল জীর্ণ। কোনওরকমে দাঁড়িয়ে বাড়ির অবশিষ্টাংশ। কিছু অবশ্য নতুন ঘর হয়েছে। সেখানে থাকে বর্তমান প্রজন্ম। জীর্ণ ঠাকুরদালান। ছাদ ভেঙে গিয়েছিল কয়েক বছর আগে। সেখানে পড়েছে কংক্রিটের প্রলেপ। হাওড়ার আন্দুলে দুইল্যাপাড়ার ভট্টাচার্য বাড়িতে আজও সাবেক নিয়ম মেনেই পুজো হয় দুর্গার। পাঁঠাবলি দেওয়া হয়। দশমীতে পান্তা সহযোগে আমিষ খেয়ে বিদায় নেন দুর্গা।
বাড়িটি ‘বড় ব্রাহ্মণদের বাড়ি’ নামে এলাকায় পরিচিত। বর্ধমান রাজবংশের পুরোহিত ছিলেন চক্রবর্তীরা। তাঁদের অনেকেই রাজার কাছ থেকে ভট্টাচার্য উপাধি পেয়েছিলেন। এরপর নিষ্কর জমিদারিত্ব পেয়ে চলে আসেন আন্দুলে। দুর্গার পুজো কে শুরু করেছিলেন তা বর্তমান প্রজন্মের স্মরণে নেই। তবে পুজোর বয়স জানেন বলে দাবি। জানান, ৪২১ বছরের পুরনো পুজো। বাড়ির বর্তমান সদস্য দুর্গাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য ও তাঁর বৌদি রীতা ভট্টাচার্য এখন পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বাড়ির একটি অংশ মেরামত করে সেখানে থাকেন শরিকরা। চার শতাব্দী পুরনো পুজোর নিয়মে এতটুকুও হেরফের হয় না। আট ফুট উচ্চতার একচালায় দেবী। তাঁর বাংলা সাজ। দেবীকে নিবেদন করা হয় মাছ সহযোগে অন্নভোগ। পূর্বপুরুষদের প্রথা অনুযায়ী, পুজোর কাতলা মাছ আসে স্থানীয় জেলেপাড়া থেকে। সন্ধিপুজো ও নবমীতে হয় পাঁঠাবলি। বলির রক্ত দুর্গাকে নিবেদন করা হয়। রেখে দেওয়া হয় পাঁঠার মাথা। দশমীতে পান্তা খেয়ে সেই মাথাটি সঙ্গে নিয়ে বিসর্জনে যান দেবী। দুর্গাপ্রসন্নবাবু বলেন, ‘নবমীতে রান্না করা বাসি ভোগ
খাইয়ে দুর্গাকে ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় বলির পাঁঠার মাথাটিও নিয়ে যাওয়া হয়।’ কুড়ি বছর আগে যখন সরস্বতী নদীতে জল টলমল করত। সেখানেই ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হতো। নদী এখন শুকিয়ে গিয়েছে। আস্তাকুঁড়ের মতো দশা। তাই স্থানীয় একটি পুকুরে হয় বিসর্জন। আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন জায়গা থেকে পুজোর সময় একত্র হন।