সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শুক্রবার দোলপূর্ণিমা তথা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাবতিথি। এই দিনে নবদ্বীপের পাড়ায় পাড়ায় যেমন মহাপ্রভুর পুজো হবে, তেমনি সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় ভাণ্ডারার মাধ্যমে প্রসাদ বিতরণ শুরু হয়ে যায়। বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপের পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ- সর্বত্রই বিভিন্ন ক্লাব, বারোয়ারির পাশাপাশি বাসিন্দারা সকাল থেকে তীর্থযাত্রীদের আপ্যায়নে উদ্যোগী হন।
শহরের বিভিন্ন পাড়ায় সকাল থেকে রাত অবধি ভক্ত ও পর্যটকদের প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সকালে কোথাও চা-কফি-বিস্কুট, আবার কোথাও লুচি, ছোলার ডাল, মিষ্টি বিতরণ করা হবে। দুপুরে কোথাও খিচুড়ি, আলুর দম, মিষ্টি, পায়েস থাকছে। আবার কোথাও ফ্রাইড রাইস, ছানার রসা, আলুর দম খাওয়ানো হয়। নবদ্বীপের গোবিন্দবাড়ি মোড়, পোড়ামাতলা রোড, দক্ষিণবঙ্গ পাড়া, পোড়াঘাট চড়া, যোগনাথতলা, পীরতলা, প্রাচীন মায়াপুর, মালঞ্চপাড়া, সরকারপাড়া, ওলাদেবীতলা, বুড়োশিবতলা, বাঁধ রোড, উডবার্ন রোড, দুধবাজার, রানিরঘাট, বড়ালঘাট, নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ সেতু-সর্বত্রই প্রসাদ বিতরণ করা হয়। কোথাও চেয়ার-টেবিলে বসিয়ে, কোথাও শালপাতার থালা- গ্লাস বা প্যাকেট করে প্রসাদ বিলি করা হয়।
গোবিন্দবাড়ি মোড়ের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভাণ্ডারার অন্যতম উদ্যোক্তা শিশির বণিক। তিনি বলেন, আমরা ১৪বছর ধরে দোলের দিন এই ভাণ্ডারা চালাচ্ছি। এবছরও সকাল থেকে কফি, বিস্কুট, লুচি-ছোলার ডাল, বোঁদে, দুপুরে ফ্রাইড রাইস, ছানার রসা, বেগুনি, আলুর দম খাওয়ানো হচ্ছে। প্রায় সাতহাজার মানুষের জন্য আমরা প্রসাদের ব্যবস্থা করি। সারা নবদ্বীপজুড়ে এই ভাণ্ডারা হয়।
দক্ষিণবঙ্গ পাড়া সংগঠনি ক্লাবের ভাণ্ডারার পরিচালনায় অন্যতম শুভজিৎ সাহা ও কৌশিক সাহা জানান, এখানে মহিষমর্দিনী মাতা ও মহাপ্রভুর পুজো করছি। দোলে সকাল ১১টা থেকে মহাপ্রসাদ খাওয়ানো হবে। খিচুড়ি, পাঁচমিশেলি তরকারি, আলুর দম, চাটনি ও পায়েস থাকছে। আমরা ১১বছর ধরে দোলে সমস্ত মানুষের জন্য প্রসাদের আয়োজন করি। এবার প্রায় আড়াই হাজার লোকের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা রেখেছি। দোলে নবদ্বীপে আসা তীর্থযাত্রীরা কেউ অভুক্ত হয়ে ফেরেন না। পোড়াঘাট চড়ার বাসিন্দা সুজয় ঘোষ বলেন, আমরা মহাপ্রভুর পুজোর আয়োজন করেছি। প্রায় দু’হাজার মানুষকে লুচি, আলুর দম, পায়েস, বোঁদে বিতরণ করা হবে।