বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: দু’বছর ধরে কুকি-মেইতেই সংঘর্ষে জ্বলছে মণিপুর। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের ইস্তফার দাবিতে সরব বিরোধীরা। কিন্তু এতদিন প্রাক্তন ফুটবলার বীরেনকে কার্যত আড়াল করে এসেছে বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু আর সম্ভব হল না। ঘরে ও বাইরে চাপের মুখে ঢোঁক গিলতে বাধ্য হল বিজেপি। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিলেন বীরেন। এদিন সকালে দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তারপর ইম্ফলে ফিরে ইস্তফার ঘোষণা করলেন। বিকেল সোয়া পাঁচটা নাগাদ রাজভবনে রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন। রাজভবনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র, রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ও দলের বিধায়করা। এদিন বীরেনের পদত্যাগের পর কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের চাপ, সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত ও কংগ্রেসের অনাস্থা প্রস্তাব—মুখ্যমন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছে।
Advertisement
গত দু’বছর ধরে জাতি হিংসায় জর্জরিত উত্তরপূর্বের এই রাজ্য। মেইতেই ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে হিংসায় মৃত্যু হয়েছে ২৫৮ জনের। ভিটেমাটি ছাড়া হাজার হাজার মানুষ। ত্রাণ শিবিরগুলিতে কোনওরকমে দিন কাটছে অসহায় ঘরছাড়াদের। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে সংঘর্ষ চলছে। মাঝে কিছুদিন পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও গত বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় একাধিক ঘরবাড়ি। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কয়েক জন মন্ত্রী বিধায়কের বাড়িতেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। রাজ্যজুড়ে জারি হয় কার্ফু। বন্ধ রাখা হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবাও। এই ধারাবাহিক হিংসা থামাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার। এরইমধ্যে রাজ্য বিধানসভায় সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছিল বিরোধী দল কংগ্রেস। এদিকে, শাসক বিজেপি বিধায়করাও মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অনাস্থা প্রস্তাবে সরকারের পতনের সম্ভাবনা ছিল। তাই বীরেনের ইস্তফা ছাড়া আর কোনও রাস্তা বিজেপির কাছে খোলা ছিল না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে গেরুয়া শিবির আর কোনও ঝুঁকি নেয়নি। বীরেনকে সরে যেতে বলে শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই নির্দেশ মেনেই বীরেনের পদত্যাগ। এদিকে, আজ থেকে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা বাতিল করে দেন মণিপুরের রাজ্যপাল। ছবি: পিটিআই



