সংবাদদাতা শান্তিনিকেতন: মাতৃযান পরিষেবা প্রদানকারী ১০২ নম্বরের অ্যাম্বুলেন্স বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নেই বললেই চলে। রোগীদের অভিযোগ, এই পরিষেবার নম্বরে ফোন করলে অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছতে দেরি করে। আবার অনেক সময় আসেও না। তার ফলে বাধ্য হয়েই রোগীর পরিজনদের হাসপাতালের বাইরে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর ভরসা করতে হয়। সেক্ষেত্রে অনেককেই নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তাই প্রসূতি ও সদ্যমাতৃত্ব লাভ করা মহিলারা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চাইছেন বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে এই সরকারি মাতৃযান পরিষেবা সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক থাকুক।
Advertisement
বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র এই মহকুমা নয়, তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকেও চিকিৎসার জন্য রোগীরা এখানে এসে থাকেন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে মাতৃযান পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাম্বুলেন্স অমিল। মূলত প্রসূতি মহিলাদের বাড়ি থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে আসা ও প্রসব হয়ে যাওয়ার পর মা ও শিশুকে বাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে আসার জন্য এই মাতৃযান পরিষেবা শুরু হয়। এই পরিষেবাটি সরকারের তরফে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু সারণ মানুষের দাবি, ১০২ নম্বরে ফোন করলে মাতৃযান পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাম্বুলেন্স সঠিক সময়ে এসে পৌঁছয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে তা আসেই না। সে কারণেই বেসরকারি পরিষেবা নিতে বাধ্য হন প্রসূতির পরিবারা। তবে হাসপাতালে বাইরে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা সরকারি ভাউচার নিয়ে মাতৃযান প্রকল্পের পরিষেবা দিয়ে থাকেন। তবে সেক্ষেত্রেও বিস্তর সমস্যা রয়েছে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযোগ, এই পরিষেবা তাদের দিতে হয়, মাত্র ৮ টাকা কিমি প্রতি হিসেবে, সেটা তাদের পক্ষেও অসম্ভব হয়ে ওঠে। অন্যদিকে সরকারি মাতৃযান পরিষেবার অ্যাম্বুলেন্সের কিমি প্রতি ভাড়া ১৮ টাকা দেওয়া হয়। তাই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ভাউচার নিয়ে থাকলেও এই পরিষেবা দিতে সব সময় সমর্থ্য হন না। যার ফলে সমস্যায় পড়ছেন প্রসূতি মহিলা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনওরকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রোগীর পরিবারের সদস্য দশরথ দাস, রাহুল আনাম, শেখ মনিরউদ্দিন বলেন, আমরা অনেকেই এই অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি। সরকারি হাসপাতালে সরকারি এই পরিষেবা অত্যন্ত প্রয়োজন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদারক করুক। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক সৈয়দ মোল্লা, শেখ আনারুল, প্রসাদ দাস বলেন, এখানে অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্স মাতৃযান পরিষেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু তার ভাড়া কিমি প্রতি অত্যন্ত কম হওয়ার কারণে খুবই অসুবিধা হয়।



