Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অমিল কুকুরে কামড়ানোর প্রতিষেধক, ঝাড়গ্রাম মেডিক্যালে হয়রানি রোগীদের

অমিল কুকুরে কামড়ানোর প্রতিষেধক, ঝাড়গ্রাম মেডিক্যালে হয়রানি রোগীদের
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালে কখনও মিলছে না স্যালাইন, কখনও অমিল ওষুধ।  দায়িত্বরত চিকিৎসকদের হাসপাতাল ছেড়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। হাসপাতালে গত শনিবার থেকে কুকুর ও বিড়ালে কামড়ানোর জরুরি প্রতিষেধক ইনজেকশন মিলছে না। আক্রান্ত শতাধিক মানুষকে মেদিনীপুর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। শহরের খোলা বাজারে প্রতিষেধক না মেলায় রোগীর পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
Advertisement
জেলার অন্যতম নামী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন। গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে রেফার করা রোগীদের ভিড় লেগেই থাকে। এহেন হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়ে অভিযোগ উঠছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মান নিয়ে কিছুদিন আগে তৃণমূলের জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু তোপ দেগেছিলেন। এবার হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহো না থাকায় চিকিৎসকরাই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও পরিচালনার অব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন তাঁরা। চিকিৎসকদের রাতে ওয়ার্ডে দেখা না পাওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল চত্বরের মর্গ সংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র চিকিৎসা বর্জ্য পড়ে থাকা নিয়ে শহরের পরিবেশ কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানাচ্ছেন। শহরের বাজার ও জনবসতি এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসা বর্জ্য অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার এখনও কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। ইমার্জেন্সি বিভাগের দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক বলেন, গত শনিবার থেকে হাসপাতালে কুকুর ও বিড়ালে কামড়ানোর জরুরি প্রতিষেধক ইনজেকশনের মজুত নেই। জেলা ও জেলার বাইরে থেকে আসা কুকুর ও বিড়ালের কামড় খাওয়া রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন।  সকলকে মেদিনীপুরে রেফার করা হচ্ছে। শহরের ওষুধের দোকানগুলোতেও ইআরআইজি ও এইচআরআইজি ইনজেকশন মিলছে না। আক্রান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইমিউনোগ্লোব্যুলিন ইনজেকশন দেওয়া জরুরি। হাসপাতালে ইনজেকশন মজুত না থাকায় সেটা দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসা না পেয়ে রোগী ও রোগীর পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে তা সামলানো যাবে না। যার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তাবে। শহরের পুরাতন ঝাড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা অংশুমান আগরওয়াল বলেন, আমার জেঠুকে কুকুরে কামড়েছিল। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম।  হাসপাতাল থেকে ইআরআইজি ইনজেকশন না থাকার কথা জানানো হয়। জেঠুকে মেদিনীপুর হাসপাতালে রেফার করা হয়। শহরের দোকানগুলোতেও এই ইনজেকশন নেই। হাসপাতালে চিকিৎসা মিলছে না। বয়স্ক মানুষকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যথেষ্ট কষ্টকর। ঝাড়গ্রাম ব্লকের আমরুলি গ্ৰামের বাসিন্দা পারুল বেরা বলেন, বিড়ালে কামড়ানোর পর হাসপাতালে এসেছিলাম। কামড়ানোর কিছুক্ষণ পর বিড়ালটি মারা যায়। চিকিৎসারা দ্রুত মেদিনীপুরে গিয়ে ইনজেকশন নেওয়ার জন্য বলেছেন। এতে যথেষ্ট হয়রানি হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এমএসভিপি অনুরুপ পাখিরা বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। প্রতিষেধকের জোগান না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ