নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মাসিমা আমাদের কাছে ব্যাগ ভর্তি টাকা রয়েছে। নাকা চেকিংয়ের কারণে এত টাকা নিয়ে যেতে পারছি না। ধরা পড়লে সব টাকা নিয়ে নেবে পুলিস। আপনার গায়ে যে অলঙ্কার রয়েছে, তার দাম ২০ হাজারও হবে না। গয়না দিয়ে আমাদের টাকাগুলো রেখে দিন। পরে আমরা গয়না দিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে যাব।’ কেপমারদের এই টোপ গিলে এক লক্ষ টাকার সোনার অলঙ্কার খোয়ালেন বৃদ্ধা। ঘটনাটি ঘটেছে খাস কলকাতার টালিগঞ্জ স্টেশনে। বৃদ্ধার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণার মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে বালিগঞ্জ জিআরপি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সমীর হালদার নামে এক জালিয়াতকে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিস।
রেল পুলিস সূত্রে খবর, সুভাষগ্রামের বাসিন্দা সরস্বতী মান্না (৬০) ৩০ জুলাই ব্যক্তিগত কাজে টালিগঞ্জ স্টেশনে আসেন। ট্রেন দেরি থাকায় স্টেশনে বসেছিলেন। দুই যুবক হঠাৎই তার পাশে এসে আলাপ জমায়। তারা দেখে নেয় বৃদ্ধার গলায়, হাতে সোনার গয়না রয়েছে। সেগুলি হাতাতে তারা কৌশল অবলম্বন করে। এরপর একটি ব্যাগ দেখিয়ে বলে, তাতে ভর্তি টাকা রয়েছে। যার অঙ্ক সবমিলিয়ে প্রায় একলক্ষের বেশি। কিন্তু এত টাকা তারা নিয়ে যেতে পারছে না। চেকিং চলায় নগদ থাকলেই পুলিস বাজেয়াপ্ত করছে। বৃদ্ধার গায়ে থাকা সোনার গয়না দেখিয়ে বলে, এগুলি বিক্রি করলে খুব বেশি ২০ হাজার টাকা পাবেন। তার চেয়ে বেশি টাকা রয়েছে তাদের কাছে। বৃদ্ধাকে অনুরোধ করে, সোনার অলঙ্কার তাদের দিয়ে টাকা রেখে দিতে। তারা কল করে টাকা নিয়ে যাবে। ওইদিন সোনার গয়না ফেরত দেবে। প্রতারকদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে সরস্বতী দেবী সোনার গয়না খুলে দেন। তাঁকে টাকার ব্যাগ দিয়ে এলাকা ছাড়ে দুই প্রতারক। বৃদ্ধা ব্যাগ খুলে দেখেন, বান্ডিলের উপরে ও নীচে একটি করে আসল টাকা রয়েছে। বাকিটা কাগজের নোট। তিনি বালিগঞ্জ জিআরপিতে অভিযোগ করেন।
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, স্টেশনে সিসি ক্যামেরা দু’মাস ধরে বন্ধ। এরপর স্থানীয় চারু মার্কেট ও টালিগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করে তদন্তকারী অফিসার শান্তনু পাল জানতে চান, কারা এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায় ওই এলাকায়। দু’জনের ছবি হাতে আসে তাঁর। সেটি দেখাতেই ওই বৃদ্ধা চিহ্নিত করেন দু’জনকে। এরপরই টালিগঞ্জ লাগোয়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার সমীরকে গ্রেপ্তার করে রেল পুলিস। একজন এখনও অধরা। জানা গিয়েছে, সমীরের নামে এই ধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। রেল স্টেশন বা বাস স্ট্যান্ডে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের টার্গেট করে তারা প্রতারণা করত বলে ধৃত জেরায় জানিয়েছে।