Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভবঘুরে, সুমনের হাত ধরে দেড় বছর পর ঠাঁই পেলেন অশীতিপর

স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন বৃহস্পতিবার দেড় বছরের বন্দিদশা ঘুচল বিমলের। তাঁর বাড়ি, পদবী অজানা। অপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দেড় বছর উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জায়গা হয়েছিল তাঁর।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভবঘুরে, সুমনের হাত ধরে দেড় বছর পর ঠাঁই পেলেন অশীতিপর
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন বৃহস্পতিবার দেড় বছরের বন্দিদশা ঘুচল বিমলের। তাঁর বাড়ি, পদবী অজানা। অপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দেড় বছর উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জায়গা হয়েছিল তাঁর। অজ্ঞাতপরিচিত ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ একটি ঘরে এতদিন কেটেছে এই বৃদ্ধের। 

Advertisement

শিলিগুড়ির বাসিন্দা সুমন বরদেওয়া। তিনি ২০১৮ সাল থেকে মেডিক্যালে নাম-পরিচয়হীন রোগী ও ভবঘুরেদের পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখা, ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করানো, ওষুধ খাওয়ানো, খাবারের জোগান দেওয়ার মতো কাজগুলি সামলে চলেছেন। নিজের টাকা থেকেই এই খরচ করেন। সাহায্যের জন্য কারও কাছে আবেদনও করেন না। তাঁর স্বামী প্রাক্তন সেনাকর্মী। সুমন বরদেওয়ার উদ্যোগেই বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছাড়লেন ৮৩ বছরের বিমল। শিলিগুড়ি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জাবিপাড়ার একটি হোমে তাঁকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালে এতদিন থাকলেও তাঁর বাড়ির লোক কেউ খোঁজ রাখেননি। বিমলও বলতে পারেন না তাঁর বাড়ি কোথায়। কে কে আছেন। কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন তিনি। 
হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম দাস বলেন, সুমন বরদেওয়া দীর্ঘদিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ধরনের রোগী ও ভবঘুরেদের যত্ন নিজের দায়িত্বে করে চলেছেন। তিনি যাবতীয় প্রমাণ দিয়ে হাসপাতাল সুপারের কাছে আবেদন জানিয়ে বিমল নামে ওই ব্যক্তিকে পাঞ্জাবিপাড়ার একটি হোমে নিয়ে গিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। সবকিছু খতিয়ে দেখে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই সমাজকর্মী এদিন ৮৩ বছরের বৃদ্ধ বিমলকে হোমে নিয়ে যান। ফলে এখন মেডিক্যালে এ ধরনের ১২ জন থাকলেন। 
সুমন বলেন, প্রতিদিনই এখানে এরকম বহু রোগী বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। বাড়ির লোকেরা অমানবিক। সেই কারণেই শেষ বয়সে চিকিৎসা, পরিষেবার দায় এড়াতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে মেডিক্যালে ফেলে দিয়ে চলে যান। আমি তাঁদের পরিচর্চা করি। ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করানো, পরিষ্কার করা সব নিজের হাতেই করি। এই কাজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওষুধ, গ্লাভস দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করে। ভবঘুরেদের এভাবে পরিচর্চা করে মানসিক শান্তি পাই। 
 ৮৩ বছরের বিমলবাবুর সঙ্গে সুমন বরদেওয়া। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ