Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহিষাদলে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী বৃদ্ধ

মহিষাদলে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী বৃদ্ধ
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: মহিষাদলে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মহিষাদল থানার ইটামগরা-১ পঞ্চায়েতের কাউকুণ্ডু গ্রামে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রী বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন। স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এদিন দুপুরে বাড়ির দরজা ভেঙে পুলিস দম্পতিকে উদ্ধার করে। মহিষাদলের বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম মোহনলাল হাজরা(৬০) ও লক্ষ্মীরানি হাজরা(৫৫)। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

Advertisement

মহিষাদল থানার ওসি নাড়ুগোপাল বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ দিয়ে খুনের পর স্বামী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। ওই ঘটনায় খুন ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। কী কারণে খুন তা তদন্ত করে দেখছে পুলিস। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাষবাস ও দিনমজুরি করে কোনওরকমে মোহনলালবাবুদের সংসার চলত। কুড়ি-বাইশ বছর আগে দম্পতির আট বছরের এক শিশুপুত্র জলে ডুবে মারা যায়। তারপর থেকেই পুত্রশোকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন লক্ষ্মীরানি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ মোহনলালবাবুর বউদি গীতারানি হাজরা রান্না করা খাবার নিয়ে দম্পতির বাড়ি যান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও সাড়া না পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর তাঁর ছোট ছেলে সুব্রত দুপুর দেড়টা নাগাদ মেজ কাকার বাড়িতে যান। একচালা বাড়ির বারান্দা ভিতর থেকে তালাবন্ধ ও চারদিক শুনশান দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। সুব্রত বলেন, বাড়ির পিছনে একটি জানালার ফাঁক দিয়ে কাকিমাকে বিছানায় মশারি টাঙানো অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখি। একটা হাত এবং শাঁখা দেখে চিনতে পারি। তখনই বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীদের ডেকে আনি। বারান্দার প্লাস্টিকের ছাউনি সরিয়ে দেখা যায় কড়িকাঠে ঝুলছে কাকুর দেহ। তারপরই পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। পুলিস ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে স্বামী ও স্ত্রীকে উদ্ধার করা হয়। 
প্রতিবেশীরা বলেন, মোহনলালের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কোনওদিন ঝগড়া বা অশান্তি দেখিনি। মানসিক সমস্যা থাকলেও লক্ষ্মীকে সবাই খুব ভালোবাসতেন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই খুব শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। পুলিস দম্পতির বাড়ি ঘিরে দিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ