Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরাতন মালদহ, গাজোলে পান্তাভাত, ছাতু খাওয়ার চল

নববর্ষ, নতুন বছরের সূচনা। ওই দিন বাঙালিদের ঘরে ঘরে পুজো পার্বণের পাশাপাশি পান্তা ভাত, ছাতু খাওয়ার রীতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তীব্র গরমে বাড়ির মধ্যে তুলসী গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।

পুরাতন মালদহ, গাজোলে পান্তাভাত, ছাতু খাওয়ার চল
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: নববর্ষ, নতুন বছরের সূচনা। ওই দিন বাঙালিদের ঘরে ঘরে পুজো পার্বণের পাশাপাশি পান্তা ভাত, ছাতু খাওয়ার রীতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তীব্র গরমে বাড়ির মধ্যে তুলসী গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। দিনভর ওই গাছে জল দেওয়ার জন্য ডালপালার দু’পাশে লাঠিতে দড়ি বেঁধে উপরে একটি মাটির পাত্র বেঁধে দেওয়া হয়।

Advertisement

পান্তা ভাত মুখে নেওয়া সহ এমন একাধিক রীতি আজও পুরাতন মালদহ এবং গাজোলের বাঙালিদের ঘরে ঘরে পালন করা হয়। কথা হচ্ছিল পুরাতন মালদহ পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শক্রঘ্ন সিনহা বর্মার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের পাড়া বেশ পুরনো। নববর্ষের সকালে পান্তা ভাত এবং যবের ছাতু খাই। পান্তার সঙ্গে বিভিন্ন সব্জি খেয়ে থাকেন অনেকে। 
পুরাতন মালদহ থেকে গাজোল সদরের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। ব্লক সদর থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে ইচাহার গ্রাম। সেই গ্রামেও পয়লা বৈশাখে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে। বাসিন্দারা বলেন, ‘এবছরের চালের ভাত, পরের বছর পান্তা ভাত।  ইচাহারের বাসিন্দা রাকেশ সিংহ বলেন, আমার মা ওই দিন পান্তা খেতে বলেন। কেন খেতে বলেন জানি না। একটু হলেও সেই দিন আমি পান্তা খাই।  
৫২০ বছর আগে মালদহে এসেছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। রামকেলিতে তিনদিন ছিলেন তিনি। তারপর থেকে পুরাতন মালদহে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাবাবেগ তৈরি হয়। একাধিক মন্দির গড়ে ওঠে এলাকায়।  তখন থেকেই বৈশাখ মাসে তুলসী গাছে জল দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় বলে দাবি। শহরের গৃহবধূ রত্না ঘোষ বলেন, বছরভর তুলসী গাছে জল দেওয়া হয়। কিন্তু গাছের উপরে মাটির পাত্র রেখে জল দেওয়া হয় শুধুমাত্র বৈশাখ মাসে।

সম্পর্কিত সংবাদ