নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চেষ্টা করেও বসে যাওয়া পুরানো নেতাদের দলের মূল স্রোতে ফেরাতে ব্যর্থ বাঁকুড়ার বিজেপি নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার বিজেপির বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় পুরানোদের নিয়ে বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে অর্ধেক ‘আমন্ত্রিত’ নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। দলের নব্য নেতাদের উপর গোঁসা করেই তাঁরা আসেননি বলে বিজেপি কর্মীরা মনে করছেন। বাঁকুড়ায় বৈঠকের মাঝে বিজেপি-র রাজ্য নেতা রীতেশ তেওয়ারি এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৈঠকে পুরানো নেতাদের উপস্থিতির হার দেখে রীতেশবাবু ক্ষুব্ধ হন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের এনিয়ে প্রশ্নবানে বিদ্ধ করেন। রীতেশবাবু ফিরে গিয়ে রাজ্যস্তরে জেলা বিজেপির ‘হাঁড়ির হাল’ নিয়ে রিপোর্ট দিলে বিড়ম্বনা বাড়বে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।
বিজেপি-র বরিষ্ঠ কার্যকর্তা সম্পর্ক কমিটির পুরুলিয়া বিভাগ ইনচার্জ অজয়কুমার ঘটক বলেন, বৈঠকে আলোচিত বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলব না। তবে আমন্ত্রিত বেশ কয়েকজন নেতা বিভিন্ন কারণে ব্যস্ত থাকায় বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে কেউ বাইরে গিয়েছেন, কেউ আবার নিজের স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে প্রাক্তন রাজ্য নেতৃত্ব ও ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নেতাদেরই ডাকা হয়েছিল। আগামী দিনে সব বসে যাওয়া নেতাদের নিয়ে দল বৈঠক করার নির্দেশ দিলে রেকর্ড জমায়েত হবে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সকলকে নিয়ে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে গেরুয়া শিবির। ওই বৈঠকে প্রাক্তন রাজ্য নেতৃত্বকেও ডাকা হয়েছে। পুরানোদের মানভঞ্জনে একাধিক সাংগঠনিক জেলা তথা লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার নাম বরিষ্ঠ কার্যকর্তা সম্পর্ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া বিভাগের আওতায় বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। নব্য নেতাদের দাপটে বসে যাওয়া পুরানোদের ফের দলের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ানোর জন্য বিজেপি আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সেই কারণেই তাঁদের মান ভাঙিয়ে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
বাঁকুড়া জেলা বিজেপি-র এক পোড়খাওয়া নেতা বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদলুদের নিয়ে নাচানাচি হয়েছিল। তারপর ভোটে কীভাবে ভরাডুবি হয়েছিল, তা সকলেই দেখেছে। তৃণমূল থেকে তাড়ানো, দাগি নেতাদের নিয়ে যে ভোট বৈতরণী পার হওয়া যাবে না, তা দলের রাজ্য নেতারা হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন। ফলে ফের পুরানোদের কথা দলের মনে পড়েছে। কিন্তু, দল অনেক দেরি করে ফেলেছে। এখন আর আদিরা ময়দানে নেমে দলের জন্য প্রাণপাত করতে চাইছে না। ভোট বিজেপিকে দিলেও দলীয় কর্মসূচিতে তারা অংশ নিতে চায় না। সেই কারণেই ডাক পেয়েও পুরানো দিনের নেতারা বৈঠকে যাননি।
তৃণমূলের সংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি দলটাই এরকম। ওই দলে কারও সম্মান নেই। তা আদি নেতারা বুঝেছেন। তাছাড়া বাংলার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার বঞ্চনা করছে। তাই তাঁরা ওই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। -নিজস্ব চিত্র