Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, ব্যাঙ্কে পেনশন তুলেই কান্না বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাদের

ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, ব্যাঙ্কে পেনশন তুলেই কান্না বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাদের
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুর এলাকার মধবী মিশ্রর বয়স ৭০ ছুঁয়েছে। স্বামী শ্রমদপ্তরে চাকরি করতেন। তিনি মারা গিয়েছেন। মাধবীদেবী পেনশেন পান। সেই টাকাতেই তাঁর সংসার চলত। প্রতিদিন তাঁকে ১৪টি ওষুধ খেতে হয়। দু’দিন আগে সরকার ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সে খবর তাঁর কানে পৌঁছেছে। এদিন ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, সব ওষুধ আর কিনতে পারব না। অসুস্থ হয়ে মরতে হবে। সরকার আমাদের কথা চিন্তা করে না। 

Advertisement

উল্লাসের কাছে একটি ব্যাঙ্কে পেনশেন তুলতে এসেছিলেন অর্জুন টুডু। তিনি বলেন, নার্ভের অসুখ রয়েছে। এছাড়া পেশার, সুগারের ওষুধও খেতে হয়। প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা ওষুধে চলে যায়। এই মাস থেকে ওষুধের খরচ আরও বেড়ে যাবে। ১৭ হাজার টাকা পেনশন পাই। তাতে কীভাবে সংসার চলবে? 
লাইনে দাঁড়িয়ে কান্না চেপে রাখতে পারলেন না এক বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার প্রবীণ কর্মী। তিনি বলেন, প্রতিদিনই পেশার, সুগার সহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ খেতে হয়। স্ত্রীরও ওষুধ ছাড়া চলে না। সাড়ে সাত হাজার টাকা বেতন পাই। বয়স হয়ে গিয়েছে। অন্য কাজ করতে পারি না। ওষুধের দাম এত বাড়িয়ে সরকার কেন আমাদের বিপাকে ফেলল? কেন্দ্রীয় সরকার কি আমাদের মৃত্যু কামনা করছে? 
ওষুধের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় এভাবেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। তাঁদের দাবি, যেসব পরিবারে একাধিক সদস্য সরকারি চাকরি করেন, তাঁদের সমস্যা নেই। কিন্তু যাঁদের পেনশনের টাকায় সংসার চলে তাঁদের দিন কীভাবে চলবে? তাঁদের দাবি, ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সব রাজনৈতিক দলেরই পথে নামা দরকার। পেনশন তুলতে আসা সুকান্ত সাহা বলেন, পেনশন বাড়েনি। অথচ ওষুধ সহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়ে চলছে। সংসার চলবে কীভাবে! ওষুধ ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। প্রতিটি ওষুধের দাম বেড়ে গিয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধের খরচ মাসে ১০হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। একদিকে জাল ওষুধ নিয়ে আমজনতা আতঙ্কে রয়েছে। অন্যদিকে, ওষুধের দাম বেড়ে চলছে। কোথাও তেমন জোরদার প্রতিবাদ নেই।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দেবু টুডু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ খেটেখাওয়া গরিব মানুষের বিরোধী। ওরা চায় না মানুষ সুস্থ ভাবে বেঁচে থাক। সেই কারণেই ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে মানুষকে বেকায়দায় ফেলা তাদের উদ্দেশ্যে। ওষুধের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ করা হবে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আগামী দিনে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করবে।
বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ওষুধের দামে লাগাম না টানলে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করার প্রস্তুতি সেরে ফেলতে হবে। তাই মাসের শুরুতে হাতে পেনশেন থাকলেও আতঙ্ককে সঙ্গী করেই তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন। তাঁদের ভাবনা একটাই, এই টাকায় ওষুধ কেনার পর খাবার জুটবে তো? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ