নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কয়েকটি নার্সিংহোমের আইসিইউয়ে প্রয়োজন ছাড়াই রোগীদের ঢোকানো হচ্ছে। অকারণে বিল বাড়ানো হচ্ছে। এমনই অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামছে প্রশাসন। ক্রেতা সুরক্ষা মেলায় যোগ দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ অভিযোগ করেন, কয়েকটি নার্সিংহোম নিজেদের ফায়দা তোলার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিল বাড়াচ্ছে। দরকার না থাকা সত্ত্বেও আইসিউয়ে রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে। গ্রাম থেকে রোগীরা বর্ধমানে আসছেন। তাঁদের এভাবে ঠকানো ঠিক নয়। এই বিষয়টি দেখা উচিত। ক্রেতাসুরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, রোগীর পরিবারের লোকজন নিজেরা দপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। ভুল চিকিৎসায় কেউ মারা গেলেও ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, কিছু নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহর ছাড়াও অন্যান্য জায়গার নার্সিংহোমগুলিতে একই প্রবণতা রয়েছে। অনেক জায়গায় ঠিকমতো চিকিৎসা করা হয় না। ভুল চিকিৎসায় অঙ্গহানি হয়েছে। ক্রেতা সুরক্ষা আদলতে মামলা হওয়ায় এক চিকিৎসককে কিছুদিন আগে মোটা অঙ্কের টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। বর্ধমানে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন। পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড এবং অসম থেকেও অনেক রোগী আসেন। তাঁরাও একশ্রেণির নার্সিংহোম মালিকদের জন্য সমস্যায় পড়ছেন। যদিও নার্সিংহোম মালিকদের দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই রোগীদের আইসিইউয়ে ভর্তি করা হয়। অকারণে ভর্তি রেখে বিল বাড়ানোর অভিযোগ ঠিক নয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নবাবহাট এলাকার কয়েকটি নার্সিংহোমের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কীভাবে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। রাজ্যর প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী ক্রেতা সুরক্ষা মেলায় যোগ দিয়ে বলেন, নার্সিংহোমগুলিতে আধিকারিকদের অভিযান চালাতে হবে। যারা গরির মানুষকে ঠকাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে রোগীদের পরিষেবা দিতে নার্সিংহোমগুলি বাধ্য। কেউ রোগীদের ফিরিয়ে দিলে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। আইন মেনে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আধিকারিকরা ব্যবস্থা নেন। এছাড়া পরিদর্শনও করা হয়। নিয়ম না মেনে নার্সিংহোম চললে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কার আইসিইউ প্রয়োজন রয়েছে আর কার নেই তা চিহ্নিত করা কঠিন বিষয়। আচমকা কোনও রোগীর শরীর খারাপ হলে তাঁকে সেখানে দিতেই হবে। তবে স্থিতিশীল কোনও রোগীকে আইসিউয়ে ভর্তি রাখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক সময় আগেই মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের আইসিইউয়ে ভর্তি রেখে বিল বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ আসে। সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিভিন্ন সময় নার্সিংহোম মালিকদের সতর্ক করা হয় বলে আধিকারিকদের দাবি।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আধিকারিকরা ব্যবস্থা নেন। এছাড়া পরিদর্শনও করা হয়। নিয়ম না মেনে নার্সিংহোম চললে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কার আইসিইউ প্রয়োজন রয়েছে আর কার নেই তা চিহ্নিত করা কঠিন বিষয়। আচমকা কোনও রোগীর শরীর খারাপ হলে তাঁকে সেখানে দিতেই হবে। তবে স্থিতিশীল কোনও রোগীকে আইসিউয়ে ভর্তি রাখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক সময় আগেই মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের আইসিইউয়ে ভর্তি রেখে বিল বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ আসে। সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিভিন্ন সময় নার্সিংহোম মালিকদের সতর্ক করা হয় বলে আধিকারিকদের দাবি।



