সংবাদদাতা, কাটোয়া: আস্ত জনপদ অজয়ের গ্রাসে হারিয়ে গিয়েছে। গ্রাম অন্যত্র সরে গিয়েছে। কিন্তু পুরনো গ্রামের কিছু বাসিন্দার ভিটে, তুলসীতলা, রাধামাধবের মন্দির টিকে রয়েছে। সেই পুরনো জনপদের স্মৃতিটুকু বাঁচাতে মরিয়া বাসিন্দারা। মঙ্গলকোটের পুরনো খেড়ুয়া গ্রামে পাকা বাড়ি, ঠাকুরদালান সবই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। মানববিহীন ওই গ্রামে সংগ্রহশালা খোলা হোক-চাইছেন নতুন খেড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দারা।
Advertisement
মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েতের খেড়ুয়া গ্রাম যে প্রাচীন জনপদ-তার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়। এখনও এখানে প্রায় প্রতি বছরই নানা দেবদেবীর প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার হয়। কিন্তু ১৯৮৪ সালে অজয়ের তীরে থাকা ওই জনপদ বন্যার জেরে কিছুটা সরে চুড়পুনি-শ্যামবাজার রাস্তার দু’ধারে চলে গিয়েছে। পুরনো খেড়ুয়া গ্রাম পড়ে রয়েছে।
নতুন খেড়ুয়ার বাসিন্দারা জানান, বাপ-ঠাকুরদার ভিটে, জমি, পুকুর ছেড়ে নতুন করে গ্রাম তৈরি করতে হয়েছে। তবে অজয়ের পাড়ে গেলেই দেখা যাবে, বেশ কিছু পুরনো পাকা বাড়ি এখনও পুরনো খেড়ুয়া গ্রামের সাক্ষ্য বহন করছে। ঝোপজঙ্গলে ভরা ওই সমস্ত বাড়িতে বিষধর সাপ ডেরা বেঁধেছে। গোস্বামীদের প্রাচীন টেরাকোটার রাধামাধব মন্দিরেও সাপখোপের আস্তানা। নাটমন্দির ঢেকেছে লতানো গাছে।
খেড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক দেবু ধাড়া বলেন, আগে অজয়ের পাড়ে আমাদের গ্রামটা ছিল। পরে অজয়ের ভাঙন আর বন্যার কবলে পড়ে গ্রাম ছেড়ে রাস্তার ধারে চলে আসতে হয়েছে। সেসময় অনেককেই সরকারিভাবে পুর্নবাসন দেওয়া হয়। নতুন খেড়ুয়া গ্রাম তৈরি হয়। পুরনো খেড়ুয়া গ্রামের বেশিরভাগই অজয় গিলে খেয়েছে। আমরা চাই, প্রত্নসামগ্রীতে ভরা পুরনো খেড়ুয়া গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা খোলা হোক। পুরনো খেড়ুয়ায় খোঁড়াখুঁড়ি করলে প্রাচীন জনপদের অনেক কিছু উঠে আসবে। গবেষণার নতুন দিক খুলে যাবে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, মঙ্গলকোটে একটি প্রত্নশালা করা হবে। প্রাচীন খেড়ুয়া গ্রাম নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করা হবে।
কলকাতার হিন্দু স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক দেবনারায়ণ গোস্বামী বলেন, আমি আগে পুরনো খেড়ুয়া গ্রামেই থাকতাম। সেসময় আমাদের গ্রাম খুব বর্ধিষ্ণু ছিল। বড় দিঘি, পুকুর, ঠাকুরদালান সবই রয়েছে। আমাদের রাধামাধবের মন্দির ফাঁকা পড়ে আছে। ১৯৭৮ সাল থেকে গ্রামের ক্ষয় হতে শুরু করেছিল। পরে ১৯৮৪ সালে আমাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে আসতে হয়। সেই স্মৃতি এখনও আমাদের বেদনা দেয়।
নতুন খেড়ুয়ার বাসিন্দা সন্তু ঘোষ, মদন মাঝি বলেন, পুরনো খেড়ুয়া গ্রামে অজয়ে মাছ ধরতে গিয়ে টানা কয়েকবছর ধরে বহু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। দু’টি সূর্যমূর্তি, একটি আড়াই ফুট উচ্চতার ‘শ্রীধর’ রূপের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়। ১৯৮৪ সালে গ্রাম ছাড়ার দু’বছরের মাথায় ১৯৮৬সালে ওই জায়গায় প্রথম বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়। এরপর দীর্ঘ কয়েকবছরে পাঁচটি বিষ্ণুমূর্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া, অনেক ভাঙা পাথরের মূর্তি মেলে। ২০১৬সালেও খেড়ুয়া গ্রামের অজয় থেকে দু’টি মূর্তি উদ্ধার হয়। আমরা চাই, পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই এলাকা সংরক্ষণ করুক। এই গ্রাম প্রত্নসামগ্রী পাচারকারীদের নজরে রয়েছে। এমনিতেই ওখান থেকে একটা মূর্তি চুরি হয়ে গিয়েছে৷ তার কিনারা এখনও হয়নি।
নতুন খেড়ুয়ার বাসিন্দারা জানান, বাপ-ঠাকুরদার ভিটে, জমি, পুকুর ছেড়ে নতুন করে গ্রাম তৈরি করতে হয়েছে। তবে অজয়ের পাড়ে গেলেই দেখা যাবে, বেশ কিছু পুরনো পাকা বাড়ি এখনও পুরনো খেড়ুয়া গ্রামের সাক্ষ্য বহন করছে। ঝোপজঙ্গলে ভরা ওই সমস্ত বাড়িতে বিষধর সাপ ডেরা বেঁধেছে। গোস্বামীদের প্রাচীন টেরাকোটার রাধামাধব মন্দিরেও সাপখোপের আস্তানা। নাটমন্দির ঢেকেছে লতানো গাছে।
খেড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক দেবু ধাড়া বলেন, আগে অজয়ের পাড়ে আমাদের গ্রামটা ছিল। পরে অজয়ের ভাঙন আর বন্যার কবলে পড়ে গ্রাম ছেড়ে রাস্তার ধারে চলে আসতে হয়েছে। সেসময় অনেককেই সরকারিভাবে পুর্নবাসন দেওয়া হয়। নতুন খেড়ুয়া গ্রাম তৈরি হয়। পুরনো খেড়ুয়া গ্রামের বেশিরভাগই অজয় গিলে খেয়েছে। আমরা চাই, প্রত্নসামগ্রীতে ভরা পুরনো খেড়ুয়া গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা খোলা হোক। পুরনো খেড়ুয়ায় খোঁড়াখুঁড়ি করলে প্রাচীন জনপদের অনেক কিছু উঠে আসবে। গবেষণার নতুন দিক খুলে যাবে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, মঙ্গলকোটে একটি প্রত্নশালা করা হবে। প্রাচীন খেড়ুয়া গ্রাম নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করা হবে।
কলকাতার হিন্দু স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক দেবনারায়ণ গোস্বামী বলেন, আমি আগে পুরনো খেড়ুয়া গ্রামেই থাকতাম। সেসময় আমাদের গ্রাম খুব বর্ধিষ্ণু ছিল। বড় দিঘি, পুকুর, ঠাকুরদালান সবই রয়েছে। আমাদের রাধামাধবের মন্দির ফাঁকা পড়ে আছে। ১৯৭৮ সাল থেকে গ্রামের ক্ষয় হতে শুরু করেছিল। পরে ১৯৮৪ সালে আমাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে আসতে হয়। সেই স্মৃতি এখনও আমাদের বেদনা দেয়।
নতুন খেড়ুয়ার বাসিন্দা সন্তু ঘোষ, মদন মাঝি বলেন, পুরনো খেড়ুয়া গ্রামে অজয়ে মাছ ধরতে গিয়ে টানা কয়েকবছর ধরে বহু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। দু’টি সূর্যমূর্তি, একটি আড়াই ফুট উচ্চতার ‘শ্রীধর’ রূপের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়। ১৯৮৪ সালে গ্রাম ছাড়ার দু’বছরের মাথায় ১৯৮৬সালে ওই জায়গায় প্রথম বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়। এরপর দীর্ঘ কয়েকবছরে পাঁচটি বিষ্ণুমূর্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া, অনেক ভাঙা পাথরের মূর্তি মেলে। ২০১৬সালেও খেড়ুয়া গ্রামের অজয় থেকে দু’টি মূর্তি উদ্ধার হয়। আমরা চাই, পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই এলাকা সংরক্ষণ করুক। এই গ্রাম প্রত্নসামগ্রী পাচারকারীদের নজরে রয়েছে। এমনিতেই ওখান থেকে একটা মূর্তি চুরি হয়ে গিয়েছে৷ তার কিনারা এখনও হয়নি।



