Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঐতিহ্যবাহী রাস ঘিরে রানিনগরের বর্ডারপাড়া হয়ে উঠছে মিলনক্ষেত্র

ঐতিহ্যবাহী রাস ঘিরে রানিনগরের বর্ডারপাড়া হয়ে উঠছে মিলনক্ষেত্র
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: ‘যাজ্ঞসেনীর খুলছে শাড়ি, টানছে ধরে দুঃশাসন, দায় ছিল যার গর্জে ওঠার, নিচু মাথায় সে পাঁচজন’-কবি আর্যতীর্থের ‘বিকর্ণ’ কবিতায় মহাভারতের দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের নির্মম চিত্র গেঁথে আছে কমবেশি অনেকের মনেই। দুর্যোধন-শকুনির পাশা খেলা থেকে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ, শেষে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ-মহাভারতের সেইসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে এবারে থিমের সাহায্যে ফুটিয়ে তুলেছে রানিনগরের বাংলাদেশ সীমান্তের বর্ডারপাড়ার রাসমেলা কমিটি। ঐতিহ্যবাহী এই রাস উৎসব ঘিরে উন্মাদনায় ভাসছে রানিনগরের বর্ডারপাড়া। বসছে মেলাও। রাত পোহালেই যাবতীয় ভেদাভেদ সরিয়ে রেখে রাসের আনন্দে মাতবে আট থেকে আশি।
Advertisement
রানিনগরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা গ্রাম বর্ডারপাড়া। গ্রামজুড়ে ৩৫০টি পরিবারের বাস। সারাবছর এখানকার মানুষ রাস উৎসবের অপেক্ষায় দিন গোনে। আজ, শুক্রবার থেকেই সেখানে শুরু হবে রাস উৎসব। চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এই উৎসবকে ঘিরে পুরো গ্রাম যেন মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একদিন আগেই আত্মীয়-স্বজনরা চলে এসেছেন। এই উৎসব ঘিরে মেতে ওঠে রানিনগর, ইসলামপুর, জিয়াগঞ্জ, লালবাগ, বহরমপুরের একাংশের মানুষ। আশেপাশের এলাকার মুসলিম ধর্মের মানুষজনও এই উৎসবে শামিল হয়।
রাসমেলা কমিটির উদ্যোক্তারা জানান, বর্ডারপাড়া ছাড়াও আশেপাশের মহাদেবপুর, ৫১ নম্বর বর্ডারপাড়ার প্রতিটি বাড়ির লোকজন চাঁদা দিয়েছে। সেই টাকাতেই পুরো রাস উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ১২ বিঘা মাঠে ঢোকার প্রবেশ পথেই একটি মণ্ডপ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন আলোকসজ্জা দিয়ে প্রায় ৮৫টি মূর্তি সাজানো হয়েছে। তাতে শকুনির পাশা খেলা থেকে শুরু করে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পটচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মাটির রংবেরঙের মূর্তির উপরে বাহারি আলোর রোশনাই একটা আলাদা মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি মণ্ডপজুড়ে লাগানো হয়েছে বিশেষ সাউন্ড সিস্টেম। মণ্ডপের কিছুটা দূরেই একটি মঞ্চ করা হয়েছে। সেখানে টানা সাতদিন ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। মেলার মাঠে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রেস্টুরেন্ট, নাগরদোলা, ট্রয় ট্রেন, ব্রেকডান্স, বিভিন্ন খাবারের স্টল থাকছে। 
মেলা কমিটির সম্পাদক বাবলু মণ্ডল বলেন, বর্ডারপাড়ায় রাস উৎসব শুরু হওয়ার আগে গ্রামের মানুষজনকে রাস উৎসবে অংশে নিতে ৩০ কিলোমিটার দূরে সাগরপাড়ার দেবীপুরে যেতে হতো। এরপর সেখান থেকে ফিরতে দেরি হলে সীমান্তরক্ষা বাহিনীর কড়া প্রশ্নেরও জবাবদিহি করতে হতো। তাই গ্রামের সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেয়, চাঁদা তুলে রাস উৎসবের আয়োজন করা হবে। তারপর থেকেই বর্ডারপাড়ায় প্রায় ১২ বিঘা জমিতে রাসযাত্রা ও মেলার আয়োজন আমরা করে আসছি। 
সম্পর্কিত সংবাদ