সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধাতালিকায় রয়েছেন কোচবিহার শহর সংলগ্ন মণীন্দ্রনাথ হাইস্কুলের তিন ছাত্রী। পঞ্চম হয়েছেন ঐশিকী দাস, অষ্টম হয়েছেন কৃষ্টি সরকার ও লীনা দাস। তবে ঐশিকী, সৃষ্টি, লীনার স্কুলে সামান্য বৃষ্টি হলে জলে থইথই অবস্থা হয়। ভেসে যায় গোটা স্কুল চত্বর। শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর ধরে বেহাল একাধিক ক্লাস রুম। টিনের চালের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির জল রুমে ঢুকে পড়াশোনা লাটে ওঠে। যার ফলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে ক্লাস রুমের সিলিংগুলিও। অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও, কোনও সুরাহা হয়নি। সংস্কার হয়নি পুরনো ভবনের প্রায় ভগ্নদশা ক্লাস রুমগুলির। ফলে ৪০-৪২ বছর আগের জীর্ণ স্কুলঘরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পঠনপাঠন চলে রাজ্য মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ঐশিকী, সৃষ্টি, লীনাদের।
এই বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। ফলে স্কুলে ক্লাসরুমের অভাব রয়েছে। তার উপর স্কুলের উত্তরদিকে থাকা ঘরগুলি বহু পুরনো। স্কুল প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর টিনের চালার পাকা ঘরগুলি তৈরি করা হয়েছিল। ফলে সেটিরও ভগ্নপ্রায় দশা। একটি অংশে রয়েছে প্রধান শিক্ষকের ঘর, অফিস রুম এবং টিচার রুম। অফিস ঘরের পুরনো বাঁশের সিলিংগুলিও টিনের ফুটো দিয়ে জল পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
ঐশিকী দাস বলেন, আমাদের স্কুলের আরও পরিকাঠামো উন্নয়ন হওয়া খুবই দরকার। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে জল জমে যায়। অষ্টম দুই ছাত্রী কৃষ্টি সরকার ও লীনা দাস বলেন, স্কুলে কোনও মুক্ত মঞ্চ নেই। আমাদের স্কুলের পুরনো ঘরগুলি সংস্কার করা খুবই প্রয়োজন। টিন ফুটো হয়ে যাওয়ায় ঘরে বৃষ্টির দিনে জল ঢুকে পড়ে। আমরা চাই স্কুলের পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়ন করা হোক।
স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি দীপক অধিকারী বলেন, আমাদের স্কুলে পরিকাঠামোগত অনেক সমস্যা আছে। স্কুলের মাঠ নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে জল জমে থাকে। ঘরগুলি বহু পুরনো হওয়ায় বেহাল দশা। ক্লাস নিতে সমস্যা হয় শিক্ষকদের। এছাড়াও সিলিং, শিক্ষকদের বসার ঘরগুলিও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে স্কুলের পরিকাঠামোগত এই সমস্যার কথা জানাব। - নিজস্ব চিত্র।