Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অগ্নিমূল্য অ্যান্টাসিড, সংসদে সরব কীর্তি! ভয়ে আধপেটা খাচ্ছেন ভোজনরসিক বাঙালি

অগ্নিমূল্য অ্যান্টাসিড, সংসদে সরব কীর্তি! ভয়ে আধপেটা খাচ্ছেন ভোজনরসিক বাঙালি
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: পেটপুরে খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা বাঙালির খাদ্যাভাসের অঙ্গ। সেটাই এখন ভুলতে বসেছে আম-বাঙালি। কাঠগোড়ায় গ্যাস, অম্বলের ওষুধ অ্যান্টাসিডের অগ্নিমূল্য। নেমন্তন্ন বাড়িতে বুঝেশুনে খাচ্ছেন। পেট পুরোপুরি ভরাচ্ছেন না। যাকে বলে নামকে ওয়াস্তে পেটপুজো! পাছে বিগড়ে যায় উদর। অ্যান্টাসিড কিনতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ। তার উপর যদি অ্যান্টিবায়োটিক লাগে তো ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’। সব ওষুধের দাম কার্যত মধ্যবিত্তের বাইরে। অতঃপর, মনে আক্ষেপ চেপে মেপে ভোজন। 
Advertisement
বাঙালির এই আক্ষেপ সংসদে তুলে তোলপাড় ফেলে দিলেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল এমপি তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ। তিনি আবার কেমিক্যাল অ্যাণ্ড ফার্টিলাইজার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানও। স্বভাবতই ওষুধের দামবৃদ্ধি নিয়ে তিনি দু’টো জায়গাতেই সরব হয়েছেন। কমিটির মিটিংয়ে ওষুধের দর নিয়ন্ত্রণে জোরালো সওয়াল করেছেন।  নজরদারি বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন। সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। দাবি করেছেন, দেশজুড়ে ওষুধের সাপ্লাই চেন ঠিকঠাক  রাখতে। 
ক’দিন আগের কথা। আসানসোলের একটি বাড়িতে চলছে প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান। বিয়ের প্রীতিভোজ। খাবারের এলাহি আয়োজন। টেবিলে বসেই এক বন্ধু অন্য জনের উদ্দেশে বললেন ‘বুঝে খাবি। পেট বিগড়ালে অ্যান্টাসিড কিনতে পারবি না। নিজের টাকার দম বুঝে খাও। দামটা কিন্তু বরের বাবা দেবেন না।’ পরিবারের সঙ্গে খেতে বসেছিলেন দত্ত পরিবার। নিম্নবিত্ত দত্তমশাই সব পদই স্রেফ চেখে দেখছেন। পরিবারের অন্যান্যদেরও সেই নির্দেশ দিয়েছেন। একরাশ আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘বুঝলেন রিপোর্টারবাবু, বর্তমান সময়ে সংসার টানাই দায়! আমার হাইপ্রেসার, সুগারও ধরা পড়েছে। তা নিয়ন্ত্রণে রাখার ওষুধ খেতে হিমশিম অবস্থা। তারউপর পেট খারাপ হলে কথাই নেই। অ্যান্টাসিডের দাম কী হারে বেড়েছে দেখেছেন!’ 
দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের একটি বড় ওষুধের দোকানে অ্যান্টাসিড কিনতে গিয়েছিলেন প্রৌঢ় বিশ্বরূপ মণ্ডল। নামি ব্র্যান্ডের অ্যান্টাসিড চাইলেন। দোকানদার বললেন, ‘আজ আপনাকে একটা ক্যাপসুল ১২ টাকায় দিলাম।  পরের বার ১৫ টাকা লাগবে।’ শুনে তো পিলে চমকানি অবস্থা বিশ্বরূপপবাবুর। বললেন, ‘কমদামি অ্যান্টাসিড আর কাজ করছে না। এবার ভালো ব্র্যান্ডের ওষুধও আর কিনতে পারব না! কোথায় যাই বলুন তো!’
বিশ্বরূপবাবুদের পথ দেখাতে পারছেন না ওষুধ ব্যবসায়ীরাও। তাঁরা একরকম নিরুপায়। দুর্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ব্যবসা করেন সুজয় পোদ্দার। কথায় কথায় তিনি বলছিলেন, ‘ওষুধের দাম কয়েক বছরে আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছে। পরিচিত ক্রেতাদের দাম বলতে সত্যিই লজ্জা লাগছে। গরিব মানুষ এই দামে ওষুধ কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। তাঁদের মুখ দেখলেই বুঝতে পারি। কিন্তু, আমাদের করণীয় কিছুই নেই।’ 
ওষুধের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে অতিথি অ্যাপায়নেও। খেয়ে ও খাইয়ে স্বস্তি পাচ্ছে না আমজনতা। আসানসোলের ক্যাটারিং ব্যবসায়ী উৎপল রায়চৌধুরীর কথায়, ‘আমি দীর্ঘদিন মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবসায় রয়েছি। কিন্তু এমন দিন আগে কখনও দেখিনি। মানুষ সত্যিই খাওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছে। আমরা প্লেট পিছু মাত্র দেড় খানা মিষ্টি ধরছি। তাতেও মিষ্টি বেঁচে যাচ্ছে।’ আসানসোল জেলা হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন,‘ এমনিতেই শীতকালে হজমের সমস্যা হয়। ভোজ বাড়ির ভুরিভোজ খেলে বিপত্তির সম্ভাবনা থাকে। ওষুধের দাম বাড়ার কারণে মানুষ এখন ভুরিভোজ এড়িয়ে যাচ্ছেন।’ সবশুনে সাংসদ কীর্তি আজাদের মন্তব্য, ‘আমি কেন্দ্রকে বারবার বলে আসছি, ওষুধ কিনতে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মধ্যবিত্তের। ইমিডিয়েট সুরাহার পথ খোঁজা হোক।’- ফাইল চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ