সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নিত্যদিন প্রিমিয়াম ট্রেন বন্দে ভারতের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের ফলে নাজেহাল হচ্ছেন যাত্রীরা। স্টেশনে ট্রেন ঢোকার আগের মুহূর্তে প্ল্যাটফর্ম পরির্তনের ঘোষণা করা হচ্ছে। তাই নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যাচ্ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চালু হয় ভাগলপুর হাওড়া ভায়া রামপুরহাট বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। প্রথম সারির প্রিমিয়াম ট্রেনের স্টপেজ পাওয়ায় খুশি রামপুরহাট সহ সংলগ্ন এলাকার যাত্রীরা। তারাপীঠে নিত্যদিন যে সংখ্যক পর্যটক আসেন, তাঁদের বেশিরভাগই বিহার ও ঝাড়খণ্ডের। বন্দে ভারতের স্টপেজ রামপুরহাট পাওয়ায় পর্যটক থেকে যাত্রীদের সুবিধা হয়, তেমনি বৈদ্যনাথ ধামের সঙ্গে তারাপীঠের যোগসূত্র তৈরি হয়। এছাড়া ট্রেনটি সকাল সাতটা বেজে ৪৫ মিনিটে হাওড়া ছেড়ে আসে। বীরভূম জেলায় শুধুমাত্র বোলপুর ও রামপুরহাট জংশনে স্টপেজ রয়েছে। রামপুরহাট ঢোকে সকাল ১০টা নাগাদ। একইভাবে ডাউনে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ১৪ মিনিটে রামপুরহাট স্টেশনে আসে। হাওড়া পৌঁছয় রাত ন’টা নাগাদ। সময়সূচি ও কম সময়ের মধ্যে কলকাতা যাওয়া আসার সুবিধার জন্য অনেকের কাছে ট্রেনটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিন্তু অভিযোগ, প্রথম দিকে প্রিমিয়াম এই ট্রেনটি রামপুরহাটে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করত। এতে এখানকার অসুস্থ রোগী থেকে যাত্রীদের সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু মাস দুয়েক ধরে ট্রেনটি প্রায়ই রামপুরহাট জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছে। রেলের নির্দিষ্ট অ্যাপ লক্ষ্য করে যাত্রীরা ট্রেনটি ধরার জন্য ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ট্রেনটি প্রবেশের মুহূর্তে জংশনের মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসছে। সামান্য সময়ের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের কারণে যাত্রীরা বিভিন্নভাবে সমস্যা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রায় প্রত্যেকদিনই এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এদিকে চটজলদি যে যাত্রীরা ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাবেন, তারও উপায় নেই। অধিকাংশ দিন ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের লিফ্ট বিকল থাকছে। চলমান সিঁড়ি থাকলেও অসুস্থ যাত্রীদের নিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন অনেকে। ফলহারিণী অমাবস্যায় তারাপীঠে পুজো দিয়ে বন্দে ভারত ধরে হাওড়া ফেরার জন্য মঙ্গলবার ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরিবার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন নীলাঞ্জন চক্রবর্তী। তখন ঘড়িতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৮ মিনিট। তখনও ঘোষণা করা হয়নি ট্রেনটি কত নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসবে। স্বভাবতই বৃদ্ধ বাবা-মা ও সন্তানদের নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে ৬ টা বেজে ১১ মিনিটে ঘোষণা করা হয় ট্রেনটি ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছে। ব্যস, যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। ছোটাছুটি, হুড়োহুড়িতে যাত্রীদের সে এক নাস্তানাবুদ অবস্থা। স্বভাবতই ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। নীলাঞ্জনবাবু বলেন, রেল কর্তৃপক্ষকে যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের আগে পর্যাপ্ত প্রচার চালানো উচিত। পরিবর্তিত প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার পথ ও লিফ্ট বা চলমান সিঁড়ি বিকল রয়েছে কি না, সেব্যাপারে সুস্পষ্ট তথ্য সরবরাহ করা উচিত। আরেক যাত্রী ইনতিয়াজ আলি বলেন, রেলের কাছে এখন যাত্রীবাহী ট্রেনের থেকে মালগাড়ির গুরুত্ব বেশি। প্রায়ই প্রত্যেকদিনই বন্দে ভারত আসার আগে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে মালগাড়ি ঢুকে দাঁড়িয়ে পড়ছে।



