সংবাদদাতা, মানকর: কাঁকসার মলানদিঘি এলাকায় অবৈধভাবে সরকারি খাস জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করানোর অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার ওই জমি পরিদর্শনে এলেন ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা। এদিন দপ্তরের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করেন ও জমির নথি খতিয়ে দেখেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথাও বলেন। সেখানে অনেকেই প্রশ্ন করেন, কীভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন হল? এই চক্রের সঙ্গে যুক্তদের শাস্তি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। বিধায়ক বলেন, ওঁরা যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, সেটা জেলাশাসককে পাঠিয়ে দিয়েছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের ক্ষমতার প্রভাবে একাধিক সরকারি খাস জমি নিজের ও পরিবারের নামে করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা। তৃণমূল আমলে প্রশাসনের নজরে এনেও লাভ হয়নি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতার দাবি, যে জমি নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমার ঠাকুমার নামে থাকা জমি বংশপরম্পরায় ছেলে, নাতিরা পেয়েছেন। সেই সূত্রেই জমি আমার নামে রেকর্ড হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মলানদিঘি গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনপল্লি শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় কিছু সরকারি খাস জমি ছিল। ওই জমিতে স্থানীয়দের কালীমন্দির তৈরির পরিকল্পনা ছিল। নির্মাণ কাজও শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে ওই খাস জমি তৃণমূল নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বেকর্ড করিয়ে নেওয়া হয়। পরে তা মোটা দামে বিক্রিও হয়। এলাকার বাসিন্দা গৌর মণ্ডল বলেন, তৃণমূল আমলে এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর সেই বিষয়টি নিয়ে পুনরায় প্রশাসনের কাছে আর্জি জানাই। আমরা চাই, সরকারের জমি ফের সরকারেরই থাকুক। আধিকারিকরা সব খতিয়ে দেখলেন। বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।