Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআরে ব্যস্ত আধিকারিক-ইঞ্জিনিয়াররা, গ্রামীণ হাওড়ায় গতিহারা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ

এসআইআরের কাজে অধিকাংশ আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারকে টেনে নেওয়ায় কার্যত ধাক্কা খেয়েছে হাওড়া জেলা পরিষদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম

এসআইআরে ব্যস্ত আধিকারিক-ইঞ্জিনিয়াররা, গ্রামীণ হাওড়ায় গতিহারা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এসআইআরের কাজে অধিকাংশ আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারকে টেনে নেওয়ায় কার্যত ধাক্কা খেয়েছে হাওড়া জেলা পরিষদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম। এর ফলে গত চার মাস ধরে জেলার গ্রামীণ এলাকায় রাজ্য সরকারের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে গিয়েছে বলে অভিযোগ। পথশ্রী, আবাস, বর্জ্য নিষ্কাশন ও রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে বীজ বিতরণ— বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কাজের গতি কমেছে চোখে পড়ার মতো।

Advertisement

জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, বিভিন্ন ক্ষেত্রে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হলেও নথিতে স্বাক্ষরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি, কাজ শেষ হওয়ার পর বিল পাশের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। কারণ, জেলা পরিষদের প্রায় ৫০ জন আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারকে এসআইআরের কাজে যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। হাওড়া জেলা পরিষদে সেক্রেটারি, ডেপুটি সেক্রেটারি ও অ্যাডিশনাল ডেপুটি সেক্রেটারি— এই তিন গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকলেও এতদিন সেক্রেটারি পদমর্যাদার আধিকারিকই অধিকাংশ নথিপত্র দেখভাল করতেন। তাঁকে উদয়নারায়ণপুরে ইআরও হিসাবে নিয়োগ করায় প্রশাসনিক কাজে ছন্দপতন হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায়। বারবার কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যাচ্ছে কাজ। কাজ শেষ হলেও বিল পাশ করাতেও সমস্যা হচ্ছে। শুধু জেলা পরিষদ নয়, হাওড়ার বিভিন্ন পঞ্চায়েত থেকেও কর্মীদের নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে পাঠানোয় বিভিন্ন গ্রামে প্রকল্পের কাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে নির্ধারিত সময়ে বীজ সরবরাহ না হওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশন থেকে বরাদ্দ টাকা আসতে বিলম্ব হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে ছোটখাটো উন্নয়নমূলক কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের একাংশের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই উন্নয়নের গতি স্তব্ধ করা হচ্ছে। হাওড়া জেলা পরিষদের মেন্টর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘নির্বাচনের আগে উন্নয়নের কাজ যাতে থমকে যায়, সেকারণেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। শুধু মানুষের হয়রানি নয়, স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ করাও এসআইআরের উদ্দেশ্য।’ পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তাপস মাইতি বলেন, একে অর্থ বরাদ্দে দেরি, তার উপর এসআইআরের জন্য লোকবল কমে গিয়েছে। তাও কাজ থেমে থাকবে না। ভোটের আগেই 
বকেয়া প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ