


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা শহরের অন্যতম ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও টালবাহানা চলার ফলে এই শেয়ারবাজারে লেনদেন এখন বন্ধ। এক্সচেঞ্জটি পাকাপাকিভাবে বন্ধ হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে রাজ্য সরকার কি শেয়ারবাজার চালু করার জন্য কিছুই করতে পারে না? এই প্রশ্ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হতে চান বর্তমান কর্মকর্তারা। এই দাবি তাঁরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে এসেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। কর্তাদের বক্তব্য, এই বাংলায় একসময় নির্বাচনি প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি এ রাজ্যে কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করবে। সেই কথা কি রাখবে নয়া সরকার?
আইনিভাবে ১৯০৮ সালে জন্ম ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের জন্ম ১৮৭৫ সালে। তবে নথি মোতাবেক, অসংগঠিতভাবে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন শুরু হয়েছিল ১৮৬৩ সালে। সেই হিসেবে দেশের প্রাচীনতম শেয়ারবাজার এটি। কিন্তু নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের নিজস্ব কাজ বন্ধ রয়েছে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের নথিভুক্ত শেয়ারগুলির কেনাবেচার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এখানে। শেষপর্যন্ত বন্ধ হয় তাও। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া অনুমতি দেয়নি এই এক্সচেঞ্জ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার। এরপর নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সেবির কাছে ‘ভালান্টারি এক্সিট’ বা পাকাপাকিভাবে শেয়ার বাজার বন্ধ করার আবেদন জানানো হয় ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের তরফে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, সেই আবেদন এখনও প্রসেস করা হয়নি সেবির তরফে। কোনও এক্সিট অর্ডার ইস্যু করা হয়নি ওই কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থার তরফে। সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় শমীক ভট্টাচার্য জানতে চেয়েছিলেন, এই শেয়ার বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি কী। অর্থমন্ত্রক থেকে জানানো হয়, শেয়ার মার্কেট থেকে নাম তোলার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করেছে তারা। বিষয়টি বর্তমানে সেবির বিবেচনাধীন। ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের ওএসডি এবং বোর্ড সেক্রেটারিয়েটের শঙ্করলাল সিং বলেন, ‘এই শেয়ারবাজার বাঁচানোর জন্য আরও একবার চেষ্টা করতে চাই। সেই কারণেই শমীকবাবুর কাছে গিয়ে আমাদের আর্জি জানিয়ে এসেছি। যেহেতু অমিত শাহ কথা দিয়েছিলেন তাঁরা এই প্রাচীন শেয়ারবাজার ফের চালু করার উদ্যোগ নেবেন, তাই আমরা আরও একবার চেষ্টা করতে চাই। মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে চাই আমরা।’