Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১ লক্ষ প্রজেক্ট খতিয়ে দেখলেন আধিকারিকরা, দু’হাজার প্রকল্প নিয়ে ‘অসন্তুষ্ট’ অফিসাররা

১ লক্ষ প্রজেক্ট খতিয়ে দেখলেন আধিকারিকরা, দু’হাজার প্রকল্প নিয়ে ‘অসন্তুষ্ট’ অফিসাররা
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নদীয়া জেলাজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। যার মধ্যে প্রায় দু’হাজার প্রকল্পের চার হাজার কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন তাঁরা। সেই সমস্ত প্রকল্পকে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফিল্ড ইন্সপেকশনের মাধ্যমে উঠে আসা সেই সমস্ত কাজ দ্রুত মেরামতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। আইসিডিএস, পিএইচই-র কাজেই সবচেয়ে বেশি দুরবস্থা নজরে এসেছে প্রশাসনের আধিকারিকদের। 

Advertisement

প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, নিয়মিত ব্লক প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দেখতে যাচ্ছেন। সেখানে কোনও কাজে গাফিলতি পাওয়া গেলে, তা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। কাজের গুণগত মানের নিরিখে ক্রিটিক্যাল, নমিনাল ও নো ইস্যু এই তিন ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে উন্নয়নের মূলক কাজে সেই সমস্ত প্রকল্পকে পরিকল্পনার তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে।‌
নদীয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি মাস থেকেই ফিল্ড ইন্সপেকশনের কাজ শুরু হয়েছিল। নদীয়া জেলায় বিগত তিন মাসে ৮১ হাজার প্রকল্পে কাজে পরিদর্শন করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।‌ জানা গিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে জেলার ১৮৫টি পঞ্চায়েতের ৪৩৬টি করে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করা হচ্ছে। তাতে এখনও পর্যন্ত ১৮০০টি প্রকল্পের ৪ হাজার ইস্যু চিহ্নিত করা গিয়েছে। 
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্রিটিকাল ইস্যু রয়েছে কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে। সেখানে বিগত তিন মাসে ৭০০-র বেশি ক্রিটিক্যাল ইস্যু পাওয়া গিয়েছে।‌ সেই সঙ্গে চাকদা ব্লকে ২৭৪টি, হাঁসখালি ব্লকে ২৭৫টি, হরিণঘাটা ব্লকে ২১১টি, করিমপুর দুই ব্লকের ৬২৮টি, নাকাশিপাড়া ব্লকের ৩০৫টি, রানাঘাট-২  ব্লকে ২২৮টি, শান্তিপুর ব্লকে ২৬০টি, তেহট্ট-১ ব্লকে ২৬২টি, তেহট্ট-২ ব্লকে ২৭৫টি ক্রিটিক্যাল ইস্যু পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর-১, কৃষ্ণগঞ্জ, করিমপুর-১, কল্যাণী, কালীগঞ্জ, চাপড়া ব্লক এলাকায় ক্রিটিক্যাল ইস্যুর সংখ্যা একশোর নীচে। 
দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় পিএইচই’র কাজের ফলে রাস্তা খারাপ হয়েছে। অনেক জায়গায় কল থাকলেও সেখান থেকে জল পড়ছে না। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আইসিডিএস সেন্টারগুলির। সেখানে বিদ্যুৎ, খাবার তৈরির সামগ্রীর অভাব রয়েছে। 
গ্রামের দিকের বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনার ব্যবস্থাও ভালো নয়। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কর্মীরা সময়মতো আসছেন না। 
খাবার তৈরি হচ্ছে অপরিচ্ছন্ন জায়গায়। যদিও নদীয়া জেলা পরিষদের তরফ থেকে জেলার ৭০০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হাল ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‌
উল্লেখ্য, রেশন ডিলার শপ, কর্মতীর্থ, বাংলা সহায়তা কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিভিন্ন সরকারি জায়গা ভিজিট করছেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা। 
পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকেই সেখানে কী কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করছেন তাঁরা। তা অ্যাপের মাধ্যমে নথিভুক্তও করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ