Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যের হস্তক্ষেপে বীরভূমের ১৭ জন শ্রমিককে ছাড়ল ওড়িশা পুলিস

রাজ্যের হস্তক্ষেপে বীরভূমের ১৭ জন শ্রমিককে ছাড়ল ওড়িশা পুলিস
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে ওড়িশায় বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখা নলহাটি-২ ব্লকের ১৭জন পরিযায়ী শ্রমিক অবশেষে ছাড়া পেলেন। তাঁরা রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে আতঙ্ক কাটছে না তাঁদের। নলহাটি-২ ব্লকের বহু যুবক ওড়িশায় কাজে যান। কেউ স্টিলের বাসনপত্র, কেউ প্রসাধনী বা স্টেশনারি সামগ্রী বাড়ি বাড়ি ফেরি করেন। ঈদুজ্জোহার পর এই ব্লকের ১৭জন ও পাইকরের দু’জন মিলে মোট ১৯জন ওড়িশায় যান। গত ২৫জুন বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশার রেমুনা থানার পুলিস তাদের থানায় ডেকে আটক করে। সকলের মোবাইল বা঩জেয়াপ্ত করা হয়। তারমধ্যে ফাইলুল শেখ নামে এক শ্রমিকের ফোন থেকে বাংলাদেশে কল করা হয়েছিল বলে তথ্য পায় সেখানকার পুলিস। যদিও ওই যুবক পুলিসকে জানান, ফেসবুকে চুল গজানোর বিজ্ঞাপন দেখে বাংলাদেশের ওই কোম্পানির নম্বরে ফোন করেছিলেন। সেটাও কয়েক বছর আগে। সেখানকার পুলিস মুরারই থানার সঙ্গে যোগাযোগ করার পর আশ্বস্ত হয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয়। এক শ্রমিক সেখান থেকে কোনওভাবে পালিয়ে যান। আটক হন নলহাটি-২ ব্লকের সুখরাবাদের বাকি ১৭জন শ্রমিক। 

Advertisement

ছাড়া পাওয়া নূরে আলম চৌধুরী এদিন ফোনে জানান, বাংলাদেশি সন্দেহে পরপর দু’দিন আমাদের ডেকে রেমুনা থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখে। তিনদিনের মাথায় আমাদের ছবি ও নানারকম প্রশ্ন করে হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়। পরে উপর থেকে চাপ রয়েছে বলে বালেশ্বর পুলিস লাইনে নিয়ে যায়। ওইদিন সন্ধ্যায় চাঁদিপুর ত্রাণশিবিরে নিয়ে গিয়ে আমাদের আটকে রাখে। আট-দশজন করে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। দাগী অপরাধীর মতো সর্বক্ষণ আমাদের উপর নজর রাখছিল তারা। শ্রমিকদের আটকে রাখার খবর পেয়ে তৎপর হয় রাজ্য সরকার। পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নথিপত্র পাঠাতে বলেন। অবশেষে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের রেমুনা থানায় নিয়ে এসে স্থানীয় হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। পরে যে বাড়িতে তাঁরা ভাড়া থাকতেন সেখানে তাঁদের ছাড়া হয়। তবে ছাড়া পেলেও আতঙ্ক কাটছে না ওই শ্রমিকদের। নূর আলম বলেন, পুলিস আমাদের ছবি তুলে রেখেছে। সবাই আতঙ্কে রয়েছি। কিছুদিনের মধ্যে বাড়ি যেতে চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ