Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের ওড়িশা, জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলিয়ে বেধড়ক মার বাঙালি শ্রমিককে

বিজেপিশাসিত ওড়িশায় ফের আক্রান্ত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক! বাংলায় কথা বলার শাস্তি হিসেবে তাঁকে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল গেরুয়াশিবির আশ্রিত একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।

ফের ওড়িশা, জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলিয়ে বেধড়ক মার বাঙালি শ্রমিককে
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আরামবাগ: বিজেপিশাসিত ওড়িশায় ফের আক্রান্ত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক! বাংলায় কথা বলার শাস্তি হিসেবে তাঁকে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল গেরুয়াশিবির আশ্রিত একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। অত্যাচারের পাশাপাশি সংখ্যালঘু যুবককে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতেও বাধ্য করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনার পর কোনওমতে কটক থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন হুগলির গোঘাটের বাসিন্দা রাজা আলি। গোঘাট থানা এলাকার ভাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরামপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। বাড়িতে বাবা-মা ছাড়াও দুই ভাই ও এক দিদি রয়েছে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাজার সঙ্গে হওয়া এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা গ্রামে। একমাত্র রোজগেরে ছেলে বাড়ি ফিরে আসায় সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারও। আতঙ্কিত ও অসহায় অবস্থায় তাঁদের দিন কাটছে। যদিও দলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুগলির বিজেপি নেতৃত্ব।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীনই অভাবের তাড়নায় রাজাকে দিনমজুরের কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন বাবা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ পাথর-মিস্ত্রি হয়ে ওঠেন রাজা। কাজের সূত্রে হওয়া এক বন্ধুই তাঁকে ওড়িশার কটক শহরে এক ঠিকাদারের কাছ পাঠায়। সেখানেই দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কাজ করছিলেন। রবিবার বাড়িতে বসে রাজা বলেন, ‘গত মাসখানেক ধরে নিজেদের বিজেপি নেতা বলে পরিচয় দেওয়া কিছু দুষ্কৃতী আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানাই। কিন্তু তিনিও ওদের ভয় পেতেন। কেউ যাতে না বুঝতে পারে সেজন্য রাতে আমাদের ঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিতেন। এতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।’
রাজারা পাঁচজন মিলে কটকের ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাঁর দাবি, ‘গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে রান্না করার সময় ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে আসে গেরুয়া কাপড়ে মুখ ঢাকা ১০-১২ জন দুষ্কৃতী। আমাদের চড়-থাপ্পড় মেরে ওরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলতেও বাধ্য করে।’ এরপরেই কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরবেন বলে মনস্থ করেন রাজা। গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে সব কিছু গোছগাছ করছিলেন, এমন সময় ফের ঘরে ঢুকে আসে ওই দুষ্কৃতীরা। রাজার অভিযোগ, ‘সেদিন ওরা আবারও আমাদের মারধর করতে থাকে। আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল। সেই টাকা কেড়ে নিয়ে আমাকে মারতে মারতে ওখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। একজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে কোনওমতে বাড়ি ফিরেছি।’ রাজার বাবা শেখ মইনুদ্দিন বলেন, ‘ছেলে রোজগার করে টাকা পাঠাতো। তাতেই সংসার চলত। এখন কী হবে আমরা জানি না। খুব অসহায় লাগছে।’
দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনও কারণে উনি মার খেয়ে থাকতে পারেন। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি কোনওভাবেই জড়িত নয়। বিজেপির নাম কলঙ্কিত করার জন্যই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ পালটা তোপ দেগেছেন তৃণমূলের গোঘাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিজয় রায়, ‘বাংলার মানুষ যেখানেই যাচ্ছে, সেখানেই বিজেপির কর্মীরা মারধর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে। পুরো বিষয়টি গোঘাট থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণ বিজেপিকে এর যোগ্য জবাব দেবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ