Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্প তৈরিতে বাধা, নেপথ্যে জমি হাঙরদের উস্কানি

কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্প তৈরিতে বাধা, নেপথ্যে জমি হাঙরদের উস্কানি
  • ৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ভাবনা এখন অতীত। এখন বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তা থেকে আয় বাড়তে উদ্যোগী হচ্ছে  পুরসভাগুলির। দুর্গাপুরে এরকমই একটি প্রজেক্ট বাধার মুখে পড়েছে। দুর্গাপুরের শঙ্করপুরে এই ধরনের প্ল্যান্ট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল পুরসভা। জমি দিয়েছিল এডিডিএ। কিন্তু স্থানীয়দের বাধায় তা করা যায়নি। এই বাধার পিছনে যেমন রয়েছে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের গন্ধ নিয়ে এক শ্রেণির মানুষের আপত্তি, তেমনই রয়েছে প্রোমোটারদের ইন্ধন। ওই এলাকায় এখন জমির বিপুল দাম। আবাসন গড়তে বহু প্রভাবশালীই জমি কিনে রেখেছেন। তাঁরা চান না কোটি কোটি টাকা দামের আবাসনের কাছে থাকুক বর্জ্য নিষ্কাশন প্ল্যান্ট। 

Advertisement

প্রোমোটারদের উস্কানির খবর রাখে প্রশাসনিক মহলও। তা সত্ত্বেও এখনই বল প্রয়োগ না করে স্থানীয়দের আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়ে প্রকল্প গড়তে চায় প্রশাসন। রবিবার পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত, দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেদিন ঠিক হয়, দুর্গাপুরের সিএমইআরআই ক্ষুদ্র আকারে একটি রকম বর্জ্য নিষ্কাশন প্ল্যান্ট তৈরি করে চালু করেছে। তার কী অবস্থা দেখতে যাওয়া হবে। পুরসভা ও এডিডিএর প্রতিনিধিরা গেলেও হাজির হতে পারেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। 
দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করতে সবরকম চেষ্টা করছি। আমরা ওর পাশেই এলাকার সৌন্দর্যায়ন ও পরিবেশ সুস্থ রাখতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল গড়েছি। ৬৭ প্রজাতির গাছ সেখানে রয়েছে। মন্ত্রী ও এডিডিএ চেয়ারম্যান একাধিক বৈঠক করেছেন। আশাকরি সমস্যা মিটে যাবে। 
দুর্গাপুর পুরসভা দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম সাজানো মেগা সিটি। অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক বেশি গাছ রয়েছে এখানে। শীতে রাস্তার ধারের রঙিন পাতার গাছ পথচারীদের মন ভালো করে দেয়। বর্ষায় সবুজ হয়ে ওঠে এলাকা। গাছের প্রাধ্যান্য থাকায় জৈব বর্জ্যর পরিমাণ বেশি। এছাড়াও শহরের এক লক্ষ ৫৩ হাজার বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব মিলিয়ে প্রতিদিন বর্জ্যর পরিমাণ দিনে ১৮০ থেকে ২০০ টন, যা এতদিন মাথাব্যথার কারণ ছিল। এবার তা থেকেই উপার্জনের রাস্তা খুলেছে। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিএমইআরআই ক্যাম্পাসে প্রজেক্ট পরিদর্শনে যান এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত ও পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য রাখী তেওয়ারির নেতৃত্বে একটি টিম। তাঁরা দেখে আপ্লুত। কোনও রকম দুর্গন্ধ নেই, এমনকী বাড়ির ভাঙা অংশ দিয়েও তৈরি হচ্ছে ইট। 
এই প্রজেক্ট বাস্তবায়িত করতে গিয়েই মিলছে বাধা। জানা গিয়েছে, বাম আমলে ওই এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে তোলা হয়েছিল। দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়েছিল পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষ। তারপরও নগরায়ন সেখানে থেমে থাকেনি। বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হয়েছে। জমির দাম আরও বেড়েছে। জমি হাঙদের পছন্দের জায়গায়। সেখানেই তাই নতুন প্রজেক্ট আসায় অনেকেই বাধা দিতে নেমেছে।
 ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি দুর্গাপুর ফরিদপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি স্বাধীন ঘোষ বলেন, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিটিংয়ের জন্যই সিএমইআরআই পরিদর্শনে যেতে পারিনি।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ