নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তৃণমূলের অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মচারী সমিতির সদস্যদের উপর কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারম্যানের লোকজন আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। তার প্রতিবাদে শনিবার বেলার দিকে পুরসভার চেয়ারম্যানের ঘরের সমানে বিক্ষোভ দেখান কর্মচারী সমিতির সদস্যরা। তাঁরা ধর্না প্রদর্শন করেন। যদিও এদিন পুরসভায় চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। তৃণমূল অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মচারী সমিতির সদস্যদের সমর্থন জানান কৃষ্ণনগর পুরসভা কাউন্সিলারদের একাংশ। সেই সঙ্গে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এর ফলে কৃষ্ণনগর শহরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এসেছে। এব্যাপারে কৃষ্ণনগর শহর তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি ও কাউন্সিলার মলয় দত্ত বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মচারীরা বহু বছর ধরে কৃষ্ণনগর পুরসভাকে পরিষেবা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের ওপর যেভাবে আক্রমণ হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পাশে রয়েছি।’ গত শুক্রবার কৃষ্ণনগর পুরসভায় ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মচারীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর ব্যাপক মারপিট হয়। দুই গোষ্ঠীর কাউন্সিলাররা একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পুরসভার চত্বরেও ভাঙচুর চালানো হয়। এই অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মচারীদের সংগঠনটি তৃণমূলের শাখা সংগঠন। তাঁদের ওপর কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারম্যানের লোকজন আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। এই সংগঠনের কর্মসূচিকে তৃণমূলের একাংশই অক্সিজেন জুগিয়েছে বলে চেয়ারম্যান গোষ্ঠীর দাবি। এই ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মচারীদের তরফ থেকে কোতোয়ালি থানায় পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে পুরসভার চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মচারী এবং বেশ কয়েকজন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। সেইসঙ্গে তৃণমূলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রকাশ দাস, চেয়ারম্যান গোষ্ঠীর এক কাউন্সিলার সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর পুরসভায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার এই দ্বন্দ্ব সামনে এসেছিল। শুক্রবারের ঘটনার রেশ ধরেই শনিবার পুরসভা চত্বরে মিছিল করে তৃণমূল অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মচারী সমিতির সদস্যরা। তারপর চেয়ারম্যানের ঘরের সামনেই ধর্নায় বসেন। পরিবর্তীতে সেই কর্মসূচিকে সমর্থন করতে তৃণমূলের চেয়ারম্যান বিরোধী কাউন্সিলাররা পুরসভায় আসেন। তৃণমূল অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মচারী সমিতির সভাপতি সমর চক্রবর্তী বলেন, ‘গত শুক্রবার চেয়ারম্যান অন্যদের দিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করান। আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছি। দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। নাহলে আন্দোলন জোরদার হবে।’কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারম্যান রীতা দাস বলেন, ‘যারা প্রকৃত অপরাধী, তারাই এখন বড়ো বড়ো কথা বলছে।



