নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মেজিয়ায় গান পয়েন্টে রেখে অবসরপ্রাপ্ত ইসিএল কর্মীর বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় পুলিস চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম বিশ্বাস রুইদাস, মনভোলা বাউরি, সুকু মুদি কোড়া ও শেখ জুলফিকার। প্রথম তিনজনের বাড়ি মেজিয়া থানার অর্ধগ্রামে। চতুর্থজন ওই থানা এলাকারই মোহনা গ্রামের বাসিন্দা। এদিন চারজনকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। শুক্রবার বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(সদর) সিদ্ধার্থ দোর্জি ধৃতদের নিয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, গত শনিবার রাত ২টো নাগাদ ১০-১১ জনের সশস্ত্র ডাকাত দলটি মেজিয়া থানার শ্যামপুরে অবসরপ্রাপ্ত ইসিএল কর্মী হারাধন বাউরির বাড়িতে ঢোকে। মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়ির সদস্যদের হাত-পা বেঁধে তারা ডাকাতি করে। ওই দলের চারজনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, গয়না সহ লুট হওয়া সামগ্রীর কিছুটা উদ্ধার করা গিয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি শ্যামপুর গ্রামে হারাধনবাবু বড় বাড়ি করেন। অবসর নেওয়ার পর তাঁর বাড়িতে অনেক টাকা, গয়না থাকতে পারে বলে দুষ্কৃতীরা অনুমান করে। হারাধনবাবুর পরিবারের সদস্যরা মাঝেমধ্যেই আদি বাড়ি শালতোড়া থানার কুখড়াকুরি এলাকা যান। ঘটনার রাতেও বাড়িতে শুধু বাড়ির মালিকের থাকার কথা ছিল। ফলে বেশ কিছুদিন ধরে ‘রেকি’ চালিয়ে দুষ্কৃতীরা ওই দিনটিকে ‘অপারেশন’ চালানোর জন্য বেছে নেয়। কিন্তু, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হারাধনবাবুর বাড়িতে পশ্চিম বর্ধমান থেকে জনাদশেক আত্মীয় এসে হাজির হয়। সেই কথা ডাকাতরা জানত না। রাতে তারা পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢুকে সটান হারাধনবাবুর ঘরে হাজির হয়। তখন অন্যান্যদের সাড়াশব্দ ডাকাতরা পায়। একে একে সকলকে এনে বাড়ির একটি হলঘরে হাজির করানো হয়। তার আগেই তাদের হাত পিছমোড়া করে বেঁধে দেওয়া হয়। কারও কারও মুখও বেঁধে দেওয়া হয়। মাথায় বন্দুক তাক করে দ্রুত ডাকাতি করে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। তবে বাড়িতে বেশি লোকজন থাকায় বেশিক্ষণ বাড়িতে থাকার ঝুঁকি দুষ্কৃতীরা নেয়নি। ফলে বেশি সামগ্রীও ডাকাতরা নিয়ে যেতে পারেনি।
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ঘটনার পরদিন তদন্তে গিয়ে আমরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাই। সেটি দুষ্কৃতীদের মধ্যে একজনের। তা থেকে ওই দুষ্কৃতীর নামধাম পাওয়া যায়। তার ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর শুরু করি। সঙ্গীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সে মদের ঠেকে বসেছিল। সেখানে হানা দিয়ে ঘটনায় জড়িত দু’জনকে ধরা সম্ভব হয়। বাকি দু’জন পালিয়ে যায়। রাতে তল্লাশি চালিয়ে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের জেরা করে বাকিদের ব্যাপারে জানা গিয়েছে। একজন ভিন জেলার দুষ্কৃতীও ওই দলে সেদিন ছিল। সে সহ বাকিদের আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ঘটনার পরদিন তদন্তে গিয়ে আমরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাই। সেটি দুষ্কৃতীদের মধ্যে একজনের। তা থেকে ওই দুষ্কৃতীর নামধাম পাওয়া যায়। তার ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর শুরু করি। সঙ্গীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সে মদের ঠেকে বসেছিল। সেখানে হানা দিয়ে ঘটনায় জড়িত দু’জনকে ধরা সম্ভব হয়। বাকি দু’জন পালিয়ে যায়। রাতে তল্লাশি চালিয়ে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের জেরা করে বাকিদের ব্যাপারে জানা গিয়েছে। একজন ভিন জেলার দুষ্কৃতীও ওই দলে সেদিন ছিল। সে সহ বাকিদের আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।



